মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান নীতি ও সামরিক অভিযানের ঘোষণার পর মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি চরম সংঘাতের দিকে মোড় নিয়েছে। তেহরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ‘বিধ্বংসী’ পাল্টা হামলার হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি তেলআবিব ও ইলাত অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল ২০২৬) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা ও রয়টার্স এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা ইসরায়েলের সামরিক ঘাঁটি এবং কৌশলগত সামরিক শিল্প স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে সফল হামলা চালিয়েছে। বিশেষ করে তেলআবিব ও ইলাত অঞ্চলে এসব হামলায় ইসরায়েলি বাহিনীর উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছে তেহরান।
আইডিএফ জানিয়েছে, ইরান থেকে আসা একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (আয়রন ডোম ও অ্যারো) সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। দেশজুড়ে সাইরেন ও সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
এদিকে উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান মার্কিন নাগরিকদের উদ্দেশ্যে সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ একটি আবেগঘন ও যৌক্তিক খোলা চিঠি লিখেছেন। চিঠিতে তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের যুদ্ধংদেহী মনোভাব নিয়ে বেশ কিছু প্রশ্ন তুলেছেন:
পেজেশকিয়ান প্রশ্ন করেছেন, এই ব্যয়বহুল যুদ্ধ কি আদৌ মার্কিন জনগণের স্বার্থ রক্ষা করছে, নাকি এটি কেবল রাজনৈতিক লালসার ফসল?
তিনি দাবি করেন, ইরান কখনোই কোনো যুদ্ধের সূচনা করেনি। উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের বর্তমান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মূলত মার্কিন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ‘বৈধ আত্মরক্ষা’।
মার্কিন বাহিনীকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ইরানের প্রতিবেশী দেশগুলোতে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি স্থাপনই প্রকৃত হুমকির কারণ।
ট্রাম্পের ৩ এপ্রিলের আলটিমেটাম এবং ইরানের পাল্টা হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে এক বিশাল আঞ্চলিক যুদ্ধের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি এবং সংলগ্ন দেশগুলোর নিরাপত্তা এখন চরম ঝুঁকির মুখে। ইরানের প্রেসিডেন্ট সরাসরি মার্কিন জনগণের কাছে আবেদন জানিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর অভ্যন্তরীণ চাপ তৈরির কৌশল নিয়েছেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

