আবুল হাসনাত, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার একটি সাধারণ পরিবারের মেয়ে নিহারিকা দাস—যার একসময় দেশ ভ্রমণের স্বপ্নও ছিল না, সেই তরুণীই এখন পাড়ি জমাতে যাচ্ছেন জাপানে উচ্চশিক্ষার জন্য।
এক্সিম ব্যাংক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ-এর কৃষি অনুষদের ১৬তম ব্যাচের এই শিক্ষার্থী জাপানের কাগোশিমা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার জন্য জাপান সরকারের ‘মনবুকাগাকুশো (MEXT)’ স্কলারশিপে মনোনীত হয়েছেন।
নিহারিকার বাড়ি শিবগঞ্জ উপজেলার হরিনগর তাঁত পল্লী গ্রামে। সীমিত সামর্থ্যের পরিবারে বেড়ে ওঠা এই শিক্ষার্থী নিজের অধ্যবসায় আর স্বপ্নের জোরে আজ আন্তর্জাতিক পরিসরে জায়গা করে নিয়েছেন।
সোমবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে তাকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. সফিকুল বারী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কৃষি অনুষদের ডিন ড. মো. মাহাবুবুর রহমান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অন্যান্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আবেগঘন কণ্ঠে নিহারিকা দাস বলেন, “আমি কখনো ভাবিনি দেশের বাইরে যাওয়ার সুযোগ পাব। একসময় দেশ ভ্রমণের স্বপ্নও ছিল না, আর আজ ভাবছি বিশ্ব দেখার কথা। এটা আমার জন্য অবিশ্বাস্য এক অনুভূতি।”
তিনি বলেন, “আমার এই স্বপ্নপূরণের পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে এক্সিম ব্যাংক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। শিক্ষকদের আন্তরিকতা, দিকনির্দেশনা ও উৎসাহ আমাকে আজকের এই জায়গায় নিয়ে এসেছে।”
নিজের পরিবার সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, “আমার বাবা-মা সবসময় আমাকে সমর্থন ও সাহস যুগিয়েছেন। তাদের আশীর্বাদ ছাড়া আজকের এই অর্জন সম্ভব হতো না।”
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানিয়ে নিহারিকা বলেন, “উচ্চশিক্ষা শেষে দেশে ফিরে কৃষিখাতে কাজ করতে চাই। দেশের উন্নয়নে নিজের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চাই।”
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপাচার্য বলেন, “আমাদের শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের সুনাম বয়ে আনছে। এই অর্জন শুধু ব্যক্তিগত নয়, এটি বিশ্ববিদ্যালয় ও দেশের জন্য গর্বের।”
চাঁপাইনবাবগঞ্জের বড় ইন্দারা মোড়ে অবস্থিত দেশের একমাত্র বেসরকারি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এক্সিম ব্যাংক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ থেকে উঠে আসা এই সাফল্য নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে বলেও মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
উল্লেখ্য, জাপান সরকারের মনবুকাগাকুশো (MEXT) স্কলারশিপ বিশ্বের অন্যতম প্রতিযোগিতামূলক বৃত্তি, যার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা জাপানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেয়ে থাকেন।

