সংযুক্ত আরব আমিরাতের গুরুত্বপূর্ণ তেলবন্দর ফুজাইরাহ বন্দরে ড্রোন হামলা ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়া তেল উত্তোলন, সরবরাহ ও রপ্তানি কার্যক্রম আবার চালু হয়েছে। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থার খবরে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
শনিবার (১৪ মার্চ) বন্দরে হামলার পর নিরাপত্তাজনিত কারণে তেল উত্তোলন, সরবরাহ ও রপ্তানি কার্যক্রম কিছু সময়ের জন্য স্থগিত রাখা হয়। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পুনরায় বন্দরটির কার্যক্রম শুরু করা হয়।
ওমান উপসাগরের তীরে অবস্থিত এই বন্দরটি জাহাজে জ্বালানি সরবরাহ এবং অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানি রপ্তানির ক্ষেত্রে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। কৌশলগত অবস্থানের কারণে অনেক সময় এটিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিকল্প হরমুজ প্রণালি হিসেবেও বিবেচনা করা হয়।
জ্বালানি বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর এই বন্দর থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৭ লাখ ব্যারেলের বেশি অপরিশোধিত তেল ও পরিশোধিত জ্বালানি রপ্তানি হয়েছে। যা বিশ্বে দৈনিক মোট তেল চাহিদার প্রায় ১ দশমিক ৭ শতাংশের সমান।
বন্দরটি হরমুজ প্রণালি থেকে প্রায় ৭০ নটিক্যাল মাইল দূরে অবস্থিত। বর্তমানে ওই অঞ্চলে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল সীমিত হয়ে পড়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে এই বন্দরের গুরুত্ব আরও বেড়েছে।
২০২৫ সালে এই বন্দর থেকে প্রায় ৭ দশমিক ৪ মিলিয়ন ঘনমিটার সামুদ্রিক জ্বালানি বিক্রি হয়েছে। এর ফলে বিশ্বের বৃহত্তম সামুদ্রিক জ্বালানি সরবরাহ কেন্দ্রগুলোর মধ্যে সিঙ্গাপুর, নেদারল্যান্ডসের রটারডাম বন্দর এবং চীনের ঝৌসান বন্দরের পরেই ফুজাইরাহর অবস্থান।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের জ্বালানি খাতেও এই বন্দরের বড় ভূমিকা রয়েছে। যুদ্ধ শুরুর আগে দেশটি প্রতিদিন প্রায় ৩৪ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল উৎপাদন করত। দেশটির এমন একটি পাইপলাইন রয়েছে, যার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে সরাসরি ফুজাইরাহ বন্দরে তেল পরিবহন করা সম্ভব।
এই পাইপলাইনটি আবুধাবির তেলক্ষেত্র থেকে ফুজাইরাহ বন্দরে তেল পৌঁছে দেয়। এখান থেকেই সংযুক্ত আরব আমিরাতের জনপ্রিয় মুরবান ধরনের অপরিশোধিত তেল রপ্তানি করা হয়, যার বড় ক্রেতা এশিয়ার দেশগুলো।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে চলাচল ব্যাহত থাকার পরিস্থিতিতে ফুজাইরাহ বন্দরে বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হলে সংযুক্ত আরব আমিরাতের তেল উৎপাদন ও রপ্তানিতে বড় প্রভাব পড়তে পারে।
ফুজাইরাহ বন্দরের মোট তেল ও জ্বালানি সংরক্ষণ ক্ষমতা প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ ঘনমিটার। ফলে এটি বিশ্বের অন্যতম বড় তেল ও জ্বালানি সংরক্ষণ ও মিশ্রণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।
তেল শিল্পে ‘মিশ্রণ’ বলতে বিভিন্ন ধরনের পেট্রোলিয়াম উপাদান একত্র করে নির্দিষ্ট মানের চূড়ান্ত জ্বালানি—যেমন পেট্রোল বা জাহাজের জ্বালানি—তৈরি করার প্রক্রিয়াকে বোঝায়।
বন্দরটিতে বিশ্বের বড় বড় জ্বালানি সংরক্ষণ প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম রয়েছে। এ ছাড়া ফুজাইরাহ তেল শিল্পাঞ্চলে মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক পরিশোধিত জ্বালানি সংরক্ষণ সুবিধাও গড়ে উঠেছে।
তথ্যসূত্র: জিও নিউজ।

