সত্যজিৎ দাস, (মৌলভীবাজার প্রতিনিধি):
মৌলভীবাজারে টানা দুই দিনের বৃষ্টিতে জেলার চা-বাগান ও বোরো ধানক্ষেতে স্বস্তি ফিরে এসেছে। দীর্ঘদিনের পানির সংকটে বিপাকে থাকা কৃষক ও চা-শিল্প সংশ্লিষ্টদের জন্য এই বৃষ্টি নতুন আশা জাগিয়েছে।
জেলার ৯২টি চা-বাগানে বৃষ্টির কারণে গাছে সতেজতা ফিরতে শুরু করেছে। চা-শিল্প সংশ্লিষ্টদের মতে,এই সময়ের বৃষ্টি চা উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কয়েক দিনের মধ্যেই চা-গাছে নতুন কুঁড়ি গজাতে শুরু করবে বলে তারা আশা করছেন।
শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে,দীর্ঘদিন বৃষ্টি না হওয়ায় অনেক চা-গাছ শুকিয়ে মারা গেছে। সময়মতো বৃষ্টি না হলে আরও অনেক গাছ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা ছিল। তবে সাম্প্রতিক এই বৃষ্টিতে পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।
এদিকে জেলার বোরো ধানখেতেও বৃষ্টির ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। পানির তীব্র সংকটে থাকা অনেক জমিতে কিছুটা হলেও পানি জমেছে। কৃষকেরা বৃষ্টির পানি ধরে রাখতে জমির চারপাশের নালা বন্ধ করে রেখেছেন। তাদের মতে,এতে ধানের বৃদ্ধি ভালো হবে এবং রোগবালাইও কমবে।
শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া পর্যবেক্ষণকেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে,শুক্রবার (১৩ মার্চ) থেকে শনিবার (১৪ মার্চ) সকাল পর্যন্ত এলাকায় মোট ৪৪ দশমিক ৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়া একই থাকলে আগামী দুই দিন আরও বৃষ্টি হতে পারে।
শমশেরনগর চা-বাগানের সহকারী ব্যবস্থাপক ইকবাল হোসেন বলেন,বৃষ্টির অভাবে বছরে তিন থেকে চার মাস চা উৎপাদন ব্যাহত হয়। সাম্প্রতিক বৃষ্টিপাত চা-গাছের জন্য খুবই উপকারী হয়েছে এবং এখন নতুন কুঁড়ি গজানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো: জালাল উদ্দিন জানান,এই সময়ের বৃষ্টি বোরো ধানের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ছিল। এতে পানির সংকট কিছুটা কমেছে। পাশাপাশি মৌসুমি ফলের মুকুল এবং বিভিন্ন সবজির জন্যও এটি উপকারী হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে জেলায় বোরো ধানের ফলন ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

