মোংলার গোরখোদক মুজিবর, বারেক ও রমজান জীবনে প্রথমবার একসঙ্গে ৯টি কবর খুঁড়েছেন। শুক্রবার (১৩ মার্চ) সকাল থেকে কবর খননের কাজ শুরু হয়। এর মধ্যে সাতটি বড় এবং দুটি শিশুর কবর রয়েছে।
মুজিবর জানান, “আমরা ১৮-২০ বছর ধরে কবর খনন করি। কিন্তু একদিনে ৯টি কবর খনন করা আগে কখনও হয়নি। এটি এক পরিবারের ৯ জনের কবর। তাই ৯টি কবর একসাথে খুঁড়তে হয়েছে। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা।”
ঘটনার সূত্রপাত হয় বৃহস্পতিবার দুপুরে খুলনার কয়রা উপজেলার নকশা গ্রামে সাব্বিরের বিয়ে-এর পর। বিয়ের বরযাত্রীদের বহনকারী মাইক্রোবাস বিকেলে খুলনা-মোংলা মহাসড়কের বেলাই ব্রিজ এলাকায় নৌবাহিনীর একটি স্টাফ বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত হন মোট ৯ জন পরিবারসহ মোট ১১ জন।
নিহতদের মধ্যে ছিলেন: মোংলা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক, তার ছেলে সাব্বির, ভাই আব্দুল্লাহ সানি, মেয়ে উম্মে সুমাইয়া ঐশী, ঐশীর ছেলে সামিউল ইসলাম ফাহিম, বড় ভাই আশরাফুল আলম জনি-এর স্ত্রী ফারহানা সিদ্দিকা পুতুল ও তাদের দুই সন্তান আলিফ, আরফা ও ইরাম, মাইক্রোবাসচালক মো. নাঈম শেখ।
কনের পক্ষের নিহতরা হলেন নববধূ মার্জিয়া আক্তার (মিতু), তার ছোট বোন লামিয়া আক্তার, দাদি রাশিদা বেগম ও নানি আনোয়ারা বেগম।
জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন জানিয়েছেন, নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। ইতিমধ্যে নাঈম শেখের পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা প্রদান করা হয়েছে।

