শুক্রবার (১৩ মার্চ) নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তার প্রশাসন ইরানকে সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে পুরোপুরি ধ্বংস করার পথে আছে। তিনি দাবি করেন, ইরানের নৌ ও বিমান বাহিনী অকেজো, এবং তাদের ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও অন্যান্য সমরাস্ত্র দ্রুত ফুরিয়ে আসছে।
ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র অতুলনীয় সমরাস্ত্র, সীমাহীন গোলাবারুদ এবং পর্যাপ্ত সময় নিয়ে যুদ্ধের ময়দানে অবস্থান করছে। তিনি ইরানের সরকারকে ‘উন্মাদ গোষ্ঠী’ আখ্যায়িত করে বলেন, গত ৪৭ বছর ধরে তারা দেশের এবং বহির্বিশ্বের নিরপরাধ মানুষ হত্যা করে এসেছে, এবং যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি সেই শাসনের অবসান ঘটাচ্ছেন, যা তার মতে “একটি অত্যন্ত সম্মানজনক দায়িত্ব।”
এর আগে, ফেব্রুয়ারি মাসে ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে তেহরান ও ওয়াশিংটনের ২১ দিনব্যাপী সংলাপ কোনো সমঝোতা ছাড়া শেষ হয়। পরদিন, ২৮ ফেব্রুয়ারি, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে। একই সময়ে ইসরায়েলও ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ নামে বড় সামরিক অভিযান চালায়। যুদ্ধের প্রথম দিনেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ অন্তত ৪০ শীর্ষ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা নিহত হন।
বর্তমানে ইরান পাল্টা হামলা চালাচ্ছে, লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় দেশগুলোর মার্কিন ঘাঁটি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো। সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন ও ওমানের মার্কিন অবস্থানগুলো ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার নিয়মিত লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই উসকানিমূলক মন্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা আরও বাড়াবে এবং বিশ্ব কূটনীতির নিয়মের পরিপন্থী হিসেবে আন্তর্জাতিক মনোযোগ আকর্ষণ করবে।”
সুত্রঃবিবিসি

