মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের উত্তাপ যখন বাড়ছে, তখন আন্তর্জাতিক রাজনীতিতেও নতুন সমীকরণ তৈরি হতে শুরু করেছে। সেই প্রেক্ষাপটে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে মোজতবা খামেনিকে সমর্থন জানিয়েছে উত্তর কোরিয়া।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে জানায়, বুধবার উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন ইরান মোজতবা খামেনিকে সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করার সিদ্ধান্তকে পিয়ংইয়ং সম্মান জানায়। মোজতবা খামেনি হলেন সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দ্বিতীয় ছেলে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার প্রথম দিনেই আলী খামেনি নিহত হন। এরপরই ইরানের অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস (বিশেষজ্ঞ পরিষদ) নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়। উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, “ইরানের জনগণের তাদের সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের অধিকার ও সিদ্ধান্তকে আমরা সম্মান জানাই।”
একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার তীব্র সমালোচনাও করেছে পিয়ংইয়ং। মুখপাত্র বলেন, “ইরানের ওপর এই বেআইনি সামরিক হামলা চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তার ভিত্তি নষ্ট করছে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অস্থিরতা বাড়িয়ে দিচ্ছে।”
একটি দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থা ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা ক্ষুণ্ণ করার অভিযোগ তুলে উত্তর কোরিয়া বলেছে, এ ধরনের আচরণ অগ্রহণযোগ্য এবং বিশ্ববাসীর উচিত এর প্রতিবাদ ও প্রত্যাখ্যান করা। এর আগেও, প্রায় ১২ দিন আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পরপরই মধ্যপ্রাচ্যে তাদের আচরণকে ‘গ্যাংস্টারসুলভ আচরণ’ বলে নিন্দা জানিয়েছিল উত্তর কোরিয়া।
এদিকে একই দিনে কেসিএনএর আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়, উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উন দেশটির সর্বাধুনিক ও বৃহত্তম রণতরি ‘চো হাইওন’ থেকে কৌশলগত ক্রুজ মিসাইলের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ পর্যবেক্ষণ করেছেন।
অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে কিম জং-উন শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য পরমাণু অস্ত্র সক্ষমতা বজায় রাখা এবং তা আরও সম্প্রসারণের কৌশলগত গুরুত্বের ওপর জোর দেন। ‘চো হাইওন’ রণতরি থেকে এটি ছিল তার উপস্থিতিতে দ্বিতীয় ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা।
গত সপ্তাহেই তিনি উত্তর কোরিয়ার নৌবাহিনীকে পরমাণু অস্ত্রে সজ্জিত করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। দশকের পর দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্র উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচি ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে আসছে। তবে সেই চেষ্টায় খুব একটা প্রভাব পড়েনি। পিয়ংইয়ং বরাবরই দাবি করে, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের সম্ভাব্য আগ্রাসন ঠেকাতেই এসব অস্ত্র তাদের জন্য প্রয়োজন।
এদিকে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ট্রাম্প প্রশাসন উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা পুনরায় শুরু করার ইঙ্গিত দিয়েছে। অন্যদিকে কিম জং-উন সম্প্রতি বলেছেন, ওয়াশিংটন যদি পিয়ংইয়ংকে পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে মেনে নেয়, তবে দুই দেশ ‘একযোগে চলতে’ পারে।

