মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাত সাড়ে ৯টার দিকে সাভারের ব্যাংক টাউন এলাকার পাগলার মোড় মহল্লায় হঠাৎ করেই উত্তেজনাকর এক ঘটনার জন্ম হয়।
সন্ধ্যার পর কাজ শেষ করে বাসায় ফিরছিলেন ১৮ বছর বয়সী রিয়া মনি। তিনি একটি বোতল কারখানায় চাকরি করেন। প্রতিদিনের মতো সেদিনও কর্মদিবস শেষে ব্যাংক টাউনের পাগলার মোড় এলাকায় পৌঁছাতেই কয়েকজন যুবক তাকে ইভটিজিং শুরু করে। অস্বস্তিকর সেই পরিস্থিতিতে পড়েই তিনি এলাকার পরিচিত ব্যক্তি শাহাদাত হোসেনকে বিষয়টি জানান।
শাহাদাত হোসেন, যিনি সাভার পৌর এলাকার ব্যাংক টাউন পাগলার মোড় মহল্লার মৃত হাজী মাসুদ খানের ছেলে এবং সাভার সদর ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, তিনি ঘটনাটি শুনে এগিয়ে আসেন। তিনি ওই যুবকদের ইভটিজিং করতে নিষেধ করেন। পরে পরিস্থিতি শান্ত হলে রিয়া মনি ও তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে বাসার দিকে রওনা দেন তিনি। কিন্তু সেই পথই যেন নতুন বিপদের দিকে নিয়ে যাচ্ছিল।
বাসার দিকে ফেরার সময় হঠাৎ করেই আয়ুব খান ও তার ছেলে আমিনসহ কয়েকজন তাদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। মুহূর্তেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। হামলার সময় আমিন ছুরি দিয়ে শাহাদাত হোসেনের মাথায় আঘাত করে বলে জানা যায়। এসময় রিয়া মনি এবং তার বাবা মকমেল (৫০)-সহ পরিবারের আরও সদস্যদেরও মারধর করা হয়।
আহত রিয়া মনি ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, তিনি কাজ শেষে বাসায় ফিরছিলেন, তখনই তাকে উত্ত্যক্ত করা হয়। পরে বিষয়টি শাহাদাত হোসেনকে জানালে তিনি প্রতিবাদ করেন। এরপর একসঙ্গে বাসায় ফেরার পথে আয়ুব খান ও তার ছেলে আমিনসহ কয়েকজন তাদের ওপর হামলা চালায়। অন্যদিকে আহত বিএনপি নেতা শাহাদাত হোসেন বলেন, একটি মেয়েকে কয়েকজন উত্ত্যক্ত করছিল। তিনি সেই ঘটনার প্রতিবাদ করায় আমিন তার মাথায় ছুরি দিয়ে আঘাত করে।
তবে অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য ভিন্ন। আয়ুব খান বলেন, তিনি শুনেছিলেন তার ছেলেকে কয়েকজন মারধর করছে। এ খবর পেয়ে তিনি একটি শাবল নিয়ে সেখানে গিয়েছিলেন। কিন্তু তার দাবি, পরে অন্যরা তার হাত থেকে শাবলটি নিয়ে নেয় এবং তিনি কাউকে মারেননি। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ। সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরমান আলী বলেন, ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

