শাহাদাৎ বাবু, নোয়াখালী প্রতিনিধি :
নোয়াখালীর সুবর্ণচর ও হাতিয়া উপজেলার সীমান্তবর্তী চর আজমল এলাকায় চারটি পরিবারের দীর্ঘদিনের চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে ও মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে তাদেরকে জিম্মি করে রাখতে চায় এলাকার প্রভাবশালী অপর একটি কুচক্রী পরিবার। শুধু তাই নয় প্রভাবশালী পরিবারের হুমকি-ধমকিতে নিরাপত্তাহীনতায় দিনাতিপাত করছেন পরিবারগুলোর সদস্যরা।
আত্মরক্ষায় বাড়ির চারপাশে সিসি ক্যামেরা বসালেও করতে পারছেন না স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। প্রশাসন ও সমাজপতিদের কাছে বিচারপ্রার্থী হয়েও মিলছে না প্রতিকার। কারণ প্রভাবশালী মহল মানছেন না কারো কথাই, তোয়াক্কা করছেন না প্রশাসনকেও। এমন অভিযোগ করছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকার সাধারণ মানুষ।
এমন পরিস্থিতিতে বিচারের দাবিতে রোববার (৮ মার্চ) দুপুরে সুবর্ণচর উপজেলার পূর্ব চরবাটা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ চর মজিদ গ্রামে ভুক্তভোগী পরিবারের বাড়ির সামনে পরিবারের সদস্যরা ও স্থানীয় সাধারণ সচেতন এলাকাবাসী মিলে নিরীহ পরিবারের সদস্যদের জিম্মি দশা থেকে মুক্তির জন্য ও মানহানিকর মামলা দিয়ে মিথ্যা সংবাদ প্রচার করানোর প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন।
বিক্ষোভ পরবর্তী মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সমাজপতি মো. নিজাম উদ্দিন, আলা উদ্দিন এবং ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য মো. ইলিয়াস, মো. আজাদ, জোসনা বেগম, ইয়াসমিন আক্তার ও সাবানা বেগম প্রমুখ।
বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, চর আজমল গ্রামের সরকারি নথিভুক্ত একটি জমির সীমানা দিয়ে দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে স্থানীয় আবু বক্কর ছিদ্দিকের পুত্র মো. ইলিয়াসসহ চারটি পরিবারের সদস্যরা চলাচল করে আসছেন। তবে রাস্তাটি দীর্ঘদিন চলাচলের অনুপযোগী থাকায় তাদের নানা ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে ছোট ছোট শিশুদের বুকসমান পানি পেরিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে হতো। এমনকি গেল বর্ষায় এক গর্ভবতী নারীকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে পরিবারটি চরম বিপাকে পড়েন।
তাদের অভিযোগ, সরকারি বন্দোবস্তের এই জমি ৯৯ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে বিক্রির সুযোগ না থাকলেও স্থানীয় আবুল খায়ের কয়েক বছর আগে অনিয়মের মাধ্যমে জমিটি ক্রয় করেন এবং পরবর্তীতে ওই জমির উত্তর পাশের সীমানা দিয়ে তাদের চলাচলে বাধা দিয়ে আসছেন।
ভুক্তভোগীরা জানান, বিষয়টি সমাধানের জন্য তারা লম্বা আকৃতির ১ ডিসিমেলের রাস্তার জমিটি দ্বিগুণ দামে ক্রয় করা অথবা দ্বিগুণ জমির বিনিময়ে সমাধানের প্রস্তাব দেন। কিন্তু আবুল খায়ের সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে চলাচলে বাধা দেন। পরে স্থানীয় সমাজপতিদের কাছে বিচার চাওয়া হলেও তাতেও কোনো সমাধান হয়নি। এমনকি চরজব্বর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলেও অভিযুক্ত পক্ষ সেখানে হাজির হওয়ার তোয়াক্কাই করেনি।
ভুক্তভোগীদের দাবি, নিরুপায় হয়ে স্থানীয়দের পরামর্শে ও সহযোগিতায় তারা মাটি ভরাট করে রাস্তাটি চলাচলের উপযোগী করলে আবুল খায়ের ও তার ছেলেরা তাদের সাঙ্গোপাঙ্গ নিয়ে হামলার চেষ্টা করে, এবং পরবর্তীতে তারা ভুক্তভোগীদের মামলায় ফাঁসানোর হুমকি প্রদান করে। তাৎক্ষণিক প্রভাবশালীরা তাদের পরিবারের নারীদের ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ তৈরি করেন তারা। সেই নিরিখে সাম্প্রতিক সময়ে আবুল খায়ের তার মেয়েকে দিয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ তুলে কুটুকৌশলে সংবাদ প্রচার করিয়ে ভুক্তভোগীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছেন বলেও দাবি করেন ভুক্তভোগীরা।
প্রতিবাদে আজকের মানববন্ধনে অংশ নেওয়া কয়েক শতাধিক গ্রামবাসীরা দ্রুত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং চার পরিবারের চলাচলের রাস্তায় সরকারি নথিভূক্ত ভূমি প্রশাসনের হস্তক্ষেপে উন্মুক্ত করার দাবি জানান। বিষয়টি দ্রুত সমাধান না হলে তারা গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে আরও কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে বলেও হুশিয়ার দেন।

