পবিত্র ঈদুল ফিতর সামনে রেখে যখন বাজারের ব্যবসায়ীরা লাখ লাখ টাকার নতুন পণ্য তুলেছেন, ঠিক সেই সময় হঠাৎ করে নিকটবর্তী একটি পার্টি সেন্টারে মেলার ঘোষণায় হতাশা নেমে এসেছে তাদের মধ্যে।
জানা গেছে, গোলাপগঞ্জ পৌর শহরের চৌমুহনী এলাকার একেবারে পাশে সিলেট–জকিগঞ্জ সড়কের ধারে অবস্থিত জি বি পার্টি সেন্টারে (সাবেক কোয়েল কিচেন) শনিবার থেকে তিন দিনের মেলার আয়োজন করা হয়েছে। শুক্রবার ইফতারের আগমুহূর্তে মাইকিংয়ের মাধ্যমে মেলার প্রচারণা শুরু হলে বিষয়টি জানতে পেরে তাৎক্ষণিক প্রতিবাদে ফেটে পড়েন গোলাপগঞ্জ চৌমুহনীর বিপণি বিতানের ব্যবসায়ীরা। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা দ্রুত বাজার বণিক সমিতির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং রাত প্রায় ১১টার দিকে সম্মিলিতভাবে গোলাপগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আরিফুল ইসলামের বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।
অভিযোগে তারা বলেন, সারা বছর ব্যবসা মন্দা থাকলেও ঈদুল ফিতরের সময়টুকুই তাদের জন্য প্রধান ভরসা। এই সময়টিতে বিক্রির আশায় নতুন ও পুরাতন ব্যবসায়ীরা দোকানে লাখ লাখ টাকার পণ্য তুলেছেন। কিন্তু বাজারের একেবারে নিকটবর্তী স্থানে মেলার আয়োজন হলে স্থায়ী ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বেন।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ পেয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ জানান, তিনি বিষয়টি আগে থেকে অবগত নন এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করার পরামর্শ দেন। এ সময় ব্যবসায়ীরা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সঙ্গেও যোগাযোগ করলে তিনিও মেলার বিষয়ে অবগত নন বলে জানান এবং থানার অফিসার ইনচার্জকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।
ব্যবসায়ীরা জানান, রমজানের ১৬ দিন পার হয়ে গেলেও বাজারে কাঙ্ক্ষিত বেচাকেনা শুরু হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে হঠাৎ করে মেলার আয়োজন তাদের জন্য নতুন দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা অবিলম্বে মেলা বন্ধের দাবি জানান এবং প্রশাসনের কাছে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।
ব্যবসায়ী নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে মেলা বন্ধ না করা হলে গোলাপগঞ্জের সব মার্কেট ও বাজারের ব্যবসায়ীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবেন।
গোলাপগঞ্জ বাজার বণিক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বিলাল আহমদ জানান, মেলার খবর পেয়ে তাৎক্ষনিক সমিতির সদস্য ও ব্যবসায়ীদের নিয়ে থানায় অভিযোগ দেয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথেও যোগাযোগ করা হয়েছে। তারা আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন মেলা বন্ধের। তিনি আরও বলেন, আমাদের সকল ব্যবসায়ী ঐক্যবদ্ধ রয়েছেন। অতীতেও ঐক্যবদ্ধভাবে আমরা এধরণের মেলা বন্ধ করেছি। ভবিষ্যতেও বন্ধ হবে।
গোলাপগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আরিফুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, মেলার বিষয়টি আগে থেকে তার জানা ছিল না। তিনি বলেন, “রাতে বণিক সমিতি ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। মেলার কোনো বৈধ অনুমতি না থাকলে আমরা কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করব।” তিনি আরও জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ইতোমধ্যে একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে গোলাপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ মেলার কোনো অনুমোদন দেওয়া হয়নি। তিনি জানান, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য থানার অফিসার ইনচার্জকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগেও গোলাপগঞ্জে রেস্টুরেন্টের লাইসেন্স ব্যবহার করে কাপড়সহ বিভিন্ন পণ্যের মেলার আয়োজনের চেষ্টা করা হয়েছিল। তখন স্থানীয় গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ এবং ব্যবসায়ীদের জোরালো প্রতিবাদের মুখে শেষ পর্যন্ত সেই মেলার কার্যক্রম বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয় আয়োজকরা।
ব্যবসায়ীরা মনে করেন, সেই ঘটনার পরও আবার একই ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হওয়ায় তাদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী সমাজের দাবি, বাজার এলাকার একেবারে নিকটে বা লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গ করে কোনো প্রতিষ্ঠান যেন অস্থায়ী মেলা বা বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে না পারে। এ বিষয়ে প্রশাসনের সুস্পষ্ট নীতিমালা ও কঠোর নজরদারির প্রয়োজন বলেও মনে করছেন তারা।

