কিশোরগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী পাগলা মসজিদ। প্রতিদিন আসরের নামাজের পর থেকে মাগরিবের আগমুহূর্ত পর্যন্ত এখানে জমে ওঠে এক ব্যতিক্রমী নিলাম। মসজিদে মানুষের দান করা গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগি, এবং নানা জিনিসপত্র বিক্রি করা হয়। অনেকেই বিশ্বাস করেন, এখানে দান করলে মনের ইচ্ছা পূরণ হয়। তাই এই নিলাম দেখতে আসেন হাজার হাজার মানুষ।
গত বৃহস্পতিবারও অন্যান্য দিনের মতো নিলাম শুরু হয়েছে আসরের নামাজের পর। সাংবাদিকরা খবরে চোখ রাখতে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। খায়রুল আলম ফয়সাল এবং ফয়জুল ইসলাম ভূইয়া পিংকু সহ চারজন সাংবাদিক নিলামের কার্যক্রম দেখার জন্য সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
কিন্তু নিলামকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে ক্রয়-বিক্রয় নিয়ন্ত্রণ করে আসা স্থানীয় সিন্ডিকেটের কিছু সদস্য হঠাৎ সাংবাদিকদের ঘিরে ‘মব’ সৃষ্টি করে। তারা সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালায়। হামলার সময় সাংবাদিক খায়রুল আলম ফয়সাল এবং ফয়জুল ইসলাম আহত হন। মসজিদের দায়িত্বরত আনসার সদস্যদের সহায়তায় দ্রুত তাঁদের উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতাল নেওয়া হয়। রাতে চিকিৎসা শেষে তারা বাড়ি ফিরে আসেন।
স্থানীয় সংবাদিক সমাজ তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তারা বলেছেন, পেশাগত দায়িত্ব পালন করার সময় সাংবাদিকদের ওপর হামলা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। অবিলম্বে হামলাকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা। প্রতিবাদে শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কিশোরগঞ্জ শহরে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
এস এম ফরহাদ হোসেন নিশ্চিত করেছেন, ঘটনা তদন্তের পর অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা বলেন, মসজিদকে সিন্ডিকেটমুক্ত করতে প্রশাসন সবসময় তৎপর। সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় তদন্তের ভিত্তিতে দোষীদের দ্রুত শাস্তির আওতায় আনা হবে।
এই ঘটনায় উদ্ভূত উত্তেজনা এবং সাংবাদিকদের সাহসিকতা একসাথে উঠে এসেছে। পাগলা মসজিদের নিলাম যেমন মানুষের বিশ্বাসের কেন্দ্রবিন্দু, তেমনই এটি সাংবাদিকতার সততা এবং স্বাধীনতার পরীক্ষা।

