শহরের হালকা বাতাসে যেন ইতোমধ্যেই উৎসবের গন্ধ ভেসে বেড়াচ্ছিল। স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীরা মুখে হাসি নিয়ে রাস্তায় ছুটছিল, আর অফিসের কর্মীরা আনন্দের অল্প ভাঁজ লুকিয়ে রাখছিলেন। সবাই জানত, আসন্ন ছুটি শুধু ঈদুল ফিতরের জন্য নয়, এবার তা আরও দীর্ঘ হবে।
আজ বৃহস্পতিবার, সচিবালয়ের কক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। আলোচ্যসূচির মধ্যে ছিল আগেই ঘোষিত ঈদুল ফিতরের ছুটি, কিন্তু এইবার সরকারের পক্ষ থেকে একটি নতুন প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়—১৮ মার্চও ছুটি ঘোষণা করা হোক। বৈঠক শেষে সকল সদস্য একমত হয়ে তা অনুমোদন করেন।
পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ১৭ মার্চ পবিত্র শবে কদরের ছুটি থাকছে। এরপর সরকার ১৯ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত পাঁচ দিনের ছুটি নির্ধারণ করেছিল, যাতে ২১ মার্চ পবিত্র ঈদুল ফিতর হয়। এইভাবে ঈদের আগে ১৯ ও ২০ মার্চ ছুটি, ঈদের দিন ২১ মার্চ ছুটি এবং পরবর্তী ২২ ও ২৩ মার্চ ছুটি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল।
কিন্তু ১৮ মার্চ ছুটি সংযোজনের পর, ঈদের আগে ছুটি বৃদ্ধি পেয়েছে চার দিনে। ফলে, ঈদুল ফিতরসহ তার আগে ও পরে মিলিয়ে মোট ছুটি দাঁড়ালো সাত দিন—১৭ থেকে ২৩ মার্চ।
মন্ত্রিসভার কক্ষে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ ১৮ মার্চও ছুটি হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। সংবাদপত্রে খবরটি বের হলে শহরজুড়ে আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে।
শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অফিসার-কর্মকর্তা, এমনকি ছোট ছোট দোকানদাররাও হাসিমুখে প্রস্তুত হচ্ছিলেন। প্রত্যেকের মনে একটাই অনুভূতি—দীর্ঘ ছুটি মানেই পরিবার, বন্ধুবান্ধব এবং ঈদ আনন্দের সম্পূর্ণ স্বাদ নেওয়ার সুযোগ।
এভাবেই, ২০২৬ সালের এই ঈদুল ফিতরের ছুটি শুধু আনন্দই নয়, অনেকের জন্য এক মুহূর্তের প্রশান্তি ও মিলনের সময় হয়ে উঠল।

