শাহজাহান আলী মনন, নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি
নীলফামারীর সৈয়দপুরে টিসিবির এক কেজি ওজনের প্যাকেট কেটে বস্তায় ভরে পাচারের সময় আটক ৭৫০ কেজি মসুর ডাল জব্দ করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে সৈয়দপুর পার্বতীপুর সড়কে ভ্যানে করে ডালগুলো ৩০ টি বস্তায় নিয়ে পরিবহনের সময় স্থানীয় শিক্ষার্থীরা এগুলো আটক করে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ডালগুলো জব্দ করে থানায় নিয়ে যায়। এ ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, আটককৃত মসুর ডালগুলো টিসিবির পণ্য। এগুলো শহরের সুলতাননগর এলাকার একটি গোডাউন থেকে ভ্যানে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। ভ্যানচালক নুর আলমকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান, ২৫ কেজি ওজনের ৩০টি বস্তা তিনি কিনেছেন। পরে শিক্ষার্থীরা তাকে নিয়ে সংশ্লিষ্ট গোডাউনে গেলে সেখানে অবস্থানরত আব্দুর রহিম নামের এক ব্যক্তি স্বীকার করেন, মালগুলো ওই গোডাউনের। গোডাউনটি টিসিবি ডিলার আনোয়ার স্টোরের।
শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে মেজবাহ বলেন, ‘চালের বস্তায় ভরা মসুর ডাল দেখে সন্দেহ হওয়ায় ভ্যানটি আটক করি। প্রশাসনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু বার বার মোবাইল করলেও ইউএনও এবং এসিল্যান্ড কল রিসিভ না করায় বাধ্য হয়ে ভ্যানসহ উপজেলা পরিষদ চত্বরে যাই। তখন এসিল্যান্ড সাব্বির হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত হতে সংশ্লিষ্ট গোডাউনে তল্লাশি চালান। সেখানে টিসিবির অন্যান্য পন্যও পাওয়া যায়। এতে উপজেলা প্রশাসন পুলিশকে জানালে হলে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আমির হোসেন উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে ডালগুলো উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যান।
সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ রেজাউল করিম রেজা জানান, ডাল জব্দের ঘটনায় জিডি করা হয়েছে। জিডির ভিত্তিতে তদন্ত করা হবে। তদন্তে পণ্য টিসিবির বলে প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। অন্যথায় যথাযথ কাগজপত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী মাল গ্রহণ করতে পারবেন।
সৈয়দপুর উপজেলা টিসিবি ডিলার তালিকা অনুযায়ী, আনোয়ার স্টোর-এর ডিলার হিসেবে মো. রুকুনুজ্জামান নিশানের নাম রয়েছে। তবে তালিকায় দেয়া মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করলে আনোয়ার হোসেন নামে এক ব্যক্তি নিজেকে লাইসেন্সধারী দাবি করেন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে।
এছাড়া ‘দুই বোন স্টোর’ ও ‘আফিয়া আসফিয়া ভ্যারাইটিজ’ নামের আরো দু’টি ডিলারশিপ নিয়েও বিভিন্ন প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় একটি সূত্র দাবি করেছে, এসব ডিলারশিপের সাথে উপজেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তার সম্পৃক্ততা আছে। যদিও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
উপজেলা পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (ওএস) এস এম আমিরুজ্জামান সরকার শামীম এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বক্তব্য দেবেন।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারহা ফাতেহা তাকমিলা বলেন, অভিযোগের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। টিসিবি ডিলারশিপ সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে

