নুরী আক্তার মুন, ডেস্ক রিপোর্ট :
বিয়ের মরসুমে কনের সাজে মেহেদির ভূমিকা আজকাল আগের যে কোনও সময়ের চেয়ে বেশি তা আর অস্বীকার করার উপায় নেই।
শুধু গয়না থাকলেই কাজ হয় না মেহেদি ছাড়া হাত খালি খালি মনে হয় অনেকেরই। গত কয়েক বছরে মেহেদি পরার জন্য আলাদা অনুষ্ঠানও আয়োজন করা হয়, যেখানে কনের পরিবার–বান্ধবীরা একসাথে বসে নকশা নির্বাচনের আনন্দ ভাগ করে নেন।

বর্তমানের ট্রেন্ড তখন আর শুধুই সরল পাতার নকশা নয়; টিউবে ভরা মেহেদি ব্যবহার করে হাত জুড়ে ডিজাইনের এক নতুন দুনিয়া সৃষ্টি হয়েছে। পুরোনো দিনে যেমন মেহেদিপাতা বেটে পেস্ট বানিয়ে নকশা করা হতো, আজ সেই রীতি অনেকাংশে হারিয়ে গেছে।
মিনিমাল থেকে ফুলে ভরাট — নকশার বৈচিত্র্য বিয়ের কনের ছোট বোন বা বান্ধবীদের জন্য মিনিমাল ডিজাইনের চাহিদা বেড়েছে। এই নকশাগুলো সাধারণত হাতের ওপরের অংশে বড় ম্যান্ডালা মোটিফ রেখে, চারপাশে চিকন বর্ডার ও বুনো পাতার নকশায় সাজানো হয়।
অন্যদিকে কনের হাতে ফুলেল ভরাট নকশাও এখন খুব জনপ্রিয়। কবজির উপর ফুল, পেইসলি ও লতাপাতার শর্তে নকশা করা হয়, যা দেখতে হৃদয়গ্রাহী ও পূর্ণতা অনুভূত করে।

ফিউশন ব্রাইডাল ডিজাইন: রাজপুতানি ও মোগল অনুপ্রেরণা আজকাল অনেকেই হাতে ফুল-পাতা ছাড়িয়ে আরও বড় আকৃতির ফিউশন নকশা বেছে নিচ্ছেন। এই ডিজাইনগুলো মূলত মোগল ও রাজস্থানি নকশার মিশ্রণে গড়ে উঠেছে। এখানে হালকা ও গাঢ় শেড মিশিয়ে আকর্ষণীয় মোডিফিকেট মোটিফ তৈরি করা হয়।
বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে তালুর অংশে রাজা–রানির মতো মুখ আঁকা হয় — যেহেতু বিয়েতে বর–কনে এক দিনের জন্য রাজা–রানির ভূমিকায় থাকেন, সেই ধারণা থেকে এটা জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
অনেক ডিজাইনে তো বরের নাম পর্যন্ত হাতের তালুতে তুলে ধরা হয়। এছাড়া ময়ূর, ফুল–পাতা, প্রাসাদ, ডেকোরেশন থিম ইত্যাদি দিয়ে সাজানো নকশাও দেখা যায়, যা ঐতিহ্যবাহী ব্রাইডাল ডিজাইনের মধ্যে বর্তমানে অন্যতম ট্রেন্ড।

জালি, জ্যামিতিক ও চুড়ি স্টাইলে নকশা, ফুল–পাতার ভরাট নকশার পাশাপাশি এখন জালি ও জ্যামিতিক প্যাটার্ন দিয়ে তৈরি নকশাও কনের হাতে দেখা যায়। আঙুলের ডগা পর্যন্ত পুরো অংশ গাঢ় রঙে ভরাট করা হয়, আর বর্ডার অংশে চুড়ি স্টাইল যুক্ত করে সামগ্রিক টোন আরও বাড়ানো হয়।
বিশেষ করে মুসলিম বিয়েতে এই শৈলী বেশি দেখা যায়। গোলাপ, পাপড়ি, পাতা ও এমনকি আলপনা নকশাও মিশিয়ে হাতে এমন নকশা করা হয় যে, দেখতে চোখে আরাম ও মনটা ভরে ওঠে সৃষ্টির সৌন্দর্যে।
নির্বাচিত নকশা দেখে এখন কনেও নিজ হাতে বা পারফেশনাল মেহেদি আর্টিস্টের মাধ্যমে এই নকশাগুলোকে জীবন্তভাবে ফুটিয়ে তুলতে পারছেন — যার কারণে বিয়ের দিনটিই হয়ে উঠছে এক অভিনব, রঙিন ও স্মরণীয় অনুষ্ঠান।


