ইরানের মাটিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানে নিহতের সংখ্যা সাড়ে পাঁচশ ছাড়িয়ে গেছে। দেশটির রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ভয়াবহ এই হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৫৫৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে কারণ অনেক এলাকায় এখনো উদ্ধার অভিযান চলছে।
ইরানের মেহর নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় ফার্স প্রদেশেই এই হামলায় অন্তত ৩৫ জন নিহত হয়েছেন। গত কয়েক দিন ধরে চলা এই ভয়াবহ আকাশপথে আক্রমণে ইরানের একের পর এক জনপদ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে, যা পুরো মধ্যপ্রাচ্যের মানবিক পরিস্থিতিকে এক চরম সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
ইরান রেড ক্রিসেন্টের দেওয়া তথ্যমতে, এখন পর্যন্ত দেশটির অন্তত ১৩১টি শহর এই বিধ্বংসী হামলার শিকার হয়েছে। সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি আবাসিক এলাকা ও বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু হওয়ায় হতাহতের পরিমাণ বহুগুণ বেড়ে গেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশজুড়ে ১ লাখেরও বেশি উদ্ধারকর্মী এবং প্রায় ৪০ লাখ স্বেচ্ছাসেবীর একটি বিশাল নেটওয়ার্ক মানবিক সেবা ও চিকিৎসায় সহায়তা দিতে কাজ করছে।
আক্রান্ত ফার্স প্রদেশসহ বিভিন্ন স্থানে উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে হতাহতদের উদ্ধারে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে অনেক জায়গায় যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় ত্রাণ কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। হাসপাতালগুলোতে আহতদের ভিড় বাড়ায় জরুরি রক্ত ও ওষুধের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।
ইরানের সামরিক কমান্ড এই হামলাকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে অভিহিত করে এর কড়া নিন্দা জানিয়েছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দাবি করেছে যে, তারা কেবল ইরানের সামরিক সক্ষমতাকে লক্ষ্য করেই এই অভিযান চালাচ্ছে। তবে বিপুল সংখ্যক বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি ও শহরের ক্ষয়ক্ষতির এই পরিসংখ্যান আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
বর্তমানে উদ্ধার কার্যক্রমই ইরানের প্রধান অগ্রাধিকার হয়ে দাঁড়িয়েছে, যদিও আকাশপথে আরও হামলার শঙ্কা এখনো কাটেনি।

