রাজবাড়ী-কুষ্টিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কের সকালটা তখনও পুরোপুরি জেগে ওঠেনি। সোমবার (২ মার্চ) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে হালকা কুয়াশা আর ব্যস্ততার শুরু—এই দুইয়ের মাঝামাঝি এক সময়। রাজবাড়ী সদর উপজেলার বাগমারা এলাকায়, সাগর এগ্রো ফুড ইন্ডাস্ট্রির সামনে দিয়ে প্রতিদিনের মতোই ছুটে চলছিল যানবাহন।
৩৯ বছর বয়সী বিল্লাল হোসেন সেদিন সকালে মোটরসাইকেল নিয়ে বেরিয়েছিলেন। তিনি কালুখালী উপজেলার বাসিন্দা, দামেজ উদ্দীনের ছেলে। প্রবাসে দীর্ঘদিন কাটানোর পর সম্প্রতি ছুটিতে দেশে ফিরেছিলেন। পরিবার-পরিজনের সঙ্গে সময় কাটানোর এই সফর যে এমন করুণ পরিণতি বয়ে আনবে, তা কেউ ভাবেনি।
সকালে রাজবাড়ী থেকে মোটরসাইকেলে করে তিনি রাজবাড়ী-কুষ্টিয়া আঞ্চলিক মহাসড়ক দিয়ে পাংশার দিকে যাচ্ছিলেন। পথের মাঝেই, বাগমারা এলাকায় পৌঁছানোর পর হঠাৎ করেই বিপরীত দিক থেকে আসা পাংশা থেকে ফরিদপুরগামী একটি মালবাহী ট্রাক তাকে সামনে থেকে চাপা দেয়। মুহূর্তের মধ্যেই সবকিছু থেমে যায়। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান বিল্লাল।
খবর পেয়ে পাংশা হাইওয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে কালুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ পাঠায়।
পাংশা হাইওয়ে থানার সার্জেন্ট মো. শামিম হোসেন জানান, ট্রাকচাপায় এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। মরদেহ কালুখালী হাসপাতালে রাখা হয়েছে এবং পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে মরদেহ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
একটি সাধারণ সকাল, একটি স্বাভাবিক যাত্রা—কিন্তু সড়কের নির্মম বাস্তবতা কেড়ে নিল এক প্রবাসফেরত সন্তানের প্রাণ। রেখে গেল শোকাহত পরিবার, স্তব্ধ জনপদ আর এক অনাকাঙ্ক্ষিত শূন্যতা।

