মধ্যপ্রাচ্যের উত্তাল এক সময়। যুদ্ধ, হামলা আর পাল্টা অভিযোগে ভারী হয়ে ওঠা আকাশের নিচে নতুন করে আলোড়ন তোলে একটি শোকবার্তা। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস।
এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে হামাস এই হত্যাকাণ্ডকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের একটি “জঘন্য হামলা” হিসেবে আখ্যা দেয়। তারা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করে ফিলিস্তিনি জনগণের সংগ্রাম, তাদের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা এবং সশস্ত্র প্রতিরোধে খামেনির সর্বাত্মক ও বহুমুখী সামরিক সমর্থনের কথা। তাদের ভাষ্যে, খামেনি শুধু একজন রাষ্ট্রনেতা ছিলেন না—ফিলিস্তিনি আন্দোলনের একজন দৃঢ় সমর্থকও ছিলেন।
বিবৃতিতে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে এই “নগ্ন আগ্রাসনের” জন্য দায়ী করা হয়। হামাস দাবি করে, ইরানের সার্বভৌমত্বের ওপর এই হামলা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতায় চরম অবনতি ডেকে আনবে, আর তার সম্পূর্ণ দায়ভার নিতে হবে এই দুই দেশকেই। একই সঙ্গে তারা সতর্ক করে দেয়—এই হামলার সুদূরপ্রসারী ও মারাত্মক পরিণতি পুরো অঞ্চলে নতুন অস্থিরতার জন্ম দিতে পারে।
শোকবার্তার পাশাপাশি ছিল একটি রাজনৈতিক আহ্বানও। হামাস আরব ও মুসলিম দেশগুলোর প্রতি জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার ডাক দেয়। তাদের মতে, ইরানের ওপর এই হামলার প্রেক্ষিতে নীরব থাকা নয়, বরং অবিলম্বে এবং সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া মুসলিম বিশ্বের দেশগুলোর রাজনৈতিক, আইনি ও ঐতিহাসিক দায়িত্ব। বর্তমান পরিস্থিতিতে কার্যকর ভূমিকা পালনের জন্য তারা মুসলিম উম্মাহর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানায়।
এভাবেই এক শোকবার্তা হয়ে ওঠে আঞ্চলিক রাজনীতির নতুন অধ্যায়ের সূচনা—যেখানে শোক, ক্ষোভ ও সতর্কবার্তা মিলেমিশে আরও অনিশ্চয়তার ইঙ্গিত দেয়।

