নরসিংদীর মাধবদী এলাকার একটি শান্ত গ্রাম। দিনের শেষে যখন মানুষ ঘরে ফেরে, সন্ধ্যার আলো-আঁধারিতে পরিবারগুলো একসঙ্গে বসে সময় কাটায়—সেই স্বাভাবিক ছন্দই হঠাৎ ভেঙে যায় এক হৃদয়বিদারক ঘটনায়।
রাতে বাবার সামনেই একদল স্থানীয় যুবক জোর করে তুলে নিয়ে যায় এক কিশোরীকে। মুহূর্তের মধ্যে নেমে আসে আতঙ্ক আর অসহায়ত্ব। পরিবার, স্বজন আর প্রতিবেশীরা সারারাত খোঁজাখুঁজি করেন। কেউ হাল ছাড়েননি। প্রত্যেকেই বিশ্বাস করেছিলেন—সে ফিরে আসবে। কিন্তু পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে গ্রামের একটি ফসলি জমি থেকে উদ্ধার করা হয় তার মরদেহ। পুরো এলাকা স্তব্ধ হয়ে যায় শোকে।
ঘটনাটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক মাধ্যমে। মানুষের মধ্যে ক্ষোভ যেমন ছিল, তেমনি ছিল ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও মানবাধিকার সংগঠন নিন্দা জানায় এবং দ্রুত বিচার দাবি করে। শোকের মাঝেও একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে ওঠে—মানুষ অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও দ্রুত তৎপর হয়। শুক্রবার রাতে মূল অভিযুক্ত নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরাকে গাজীপুরের মাওনা এলাকা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। একই সময় কুমিল্লার গৌরিপুর থেকে হযরত আলী নামে আরেকজনকে আটক করা হয়। এর আগে সন্দেহভাজন আরও পাঁচজনকে গ্রেফতারের কথা জানানো হয়েছিল।
নরসিংদীর মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামাল হোসেন জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্য দুই অভিযুক্ত এখনও পলাতক, তবে তাদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গোপন তথ্য ও মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে আসামিদের আটক করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।
আলোচিত এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে ঢাকা রেঞ্জের উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শক (ডিআইজি) রেজাউল করিম মল্লিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তার উপস্থিতি স্থানীয়দের মধ্যে আস্থা জাগায়—ন্যায়বিচারের পথ এগিয়ে চলছে।
একটি নিষ্পাপ প্রাণ আর ফিরে আসবে না। কিন্তু তার জন্য মানুষের যে ভালোবাসা, প্রতিবাদ আর ন্যায়বিচারের দাবি—তা প্রমাণ করে, অন্ধকার যত গভীরই হোক, সমাজ একসঙ্গে দাঁড়ালে আলোর পথ খুঁজে পাওয়া যায়। এই শোক যেন শক্তিতে রূপ নেয়—অন্যায়ের বিরুদ্ধে, নিরাপদ সমাজ গড়ার প্রত্যয়ে।

