লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে এক ছোট্ট এলাকার শান্তি ভাঙল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর। সোনাপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের হায়দর আলী বেপারীর বাড়ির শাহ আলম তার ব্যাটারিচালিত রিকশা রাস্তার ওপর রেখে ইফতার করতে গেলে অচেনা কেউ মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে রিকশাটি চুরি করে নেয়।
তৎক্ষণাৎ শাহ আলম আশপাশের লোকদের সহায়তায় চার সন্দেহভাজনকে আটক করতে সক্ষম হন। তবে চোরেরা ব্যাটারি অন্যত্র বিক্রি করে দেয়ায় রিকশার মালিক ও স্থানীয়রা তাদেরকে বাড়িতে নিয়ে ব্যাটারি ফেরত পাওয়ার চেষ্টায় জন্য মারধর করতে থাকে।
এই সময় জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল আসে, এবং রাত সাড়ে ৮টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আটক ব্যক্তিদের থানায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু এলাকাবাসী ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। তারা বলে, যতক্ষণ ব্যাটারি উদ্ধার হবে না, আটক ব্যক্তিদের থানায় নেওয়া যাবে না। তৎপরতায় পুলিশ ও স্থানীয়দের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ রয়েছে, পুলিশ গ্রামবাসীর ওপরও হামলা চালায়। রিকশা চালক শাহ আলম বলেন, “আমরা ব্যাটারি উদ্ধার করার জন্য চোরদের আটক করেছি। পুলিশ এসে তাদের নিয়ে যেতে চায়, কিন্তু আমরা দিতে পারছি না। এতে অন্তত ১৫-১৬ জন আহত হয়েছে।”
পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এলাকাবাসী রাস্তায় ইট, বাঁশ ও গাছের গুড়ি ফেলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। তারা প্রায় চার ঘণ্টা ধরে লক্ষ্মীপুর-চাঁদপুর সড়ক অবরোধ করে রাখে। এই সময় সড়কের দুই পাশে অন্তত দুই কিলোমিটার এলাকায় যানজট সৃষ্টি হয়।
রায়পুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামিনুল হক জানিয়েছেন, মোবাইল টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে চেষ্টা করে আটকদের থানায় নিয়ে যেতে। কিন্তু পেছন থেকে এলাকাবাসী ইটপাটকেল ছুড়তে থাকে। এতে চার পুলিশ সদস্য আহত হন এবং হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে সেনাবাহিনী ও অতিরিক্ত পুলিশ এসে অবরোধ তুলে দেয় এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। আটক চারজন সন্দেহভাজন থানার হেফাজতে রয়েছে।
শেষ পর্যন্ত পুলিশের উদ্যোগ ও স্থানীয়দের জোরালো প্রতিক্রিয়ার মধ্যে রিকশা চুরির ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়। তবে এই ঘটনার গল্পটি মনে করিয়ে দেয়, কখনো কখনো ছোট সমস্যার উত্তেজনা কীভাবে এলাকার পুরো শান্তি ভেঙে দিতে পারে।

