বুধবার সকাল। পুলিশ সদরদপ্তরে আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। নবনিযুক্ত পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির দায়িত্বভার গ্রহণ করলেন। ২৫ ফেব্রুয়ারি সকালে দায়িত্ব নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে পুলিশ সদরদপ্তর।
এর একদিন আগে, ২৪ ফেব্রুয়ারি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছিল—তৎকালীন অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজিপি) ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)-এর প্রধান মো. আলী হোসেন ফকিরকে সরকার নতুন আইজিপি হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে।
বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের ১৫তম ব্যাচের সদস্য আলী হোসেন ফকিরের কর্মজীবন কেবল পদোন্নতির গল্প নয়, বরং বারবার বাধা পেরোনোর ইতিহাস। ১৯৯৭ সালে শেখ হাসিনার প্রথম মেয়াদে তিনি রাজনৈতিক রোষানলে পড়ে বরখাস্ত হন। পরে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ক্ষমতায় এলে আইনি প্রক্রিয়ায় চাকরি ফিরে পান।
কিন্তু তার পথচলা তখনও মসৃণ হয়নি। আবারও আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে। এরপর ড. মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে আইনি প্রক্রিয়ায় তিনি এসপি পদমর্যাদায় চাকরি ফিরে পান। পরে সুপার নিউমারারি ডিআইজি হিসেবে পদোন্নতিও পান।
বাগেরহাটের সন্তান আলী হোসেন ফকির কর্মজীবনে চৌকস কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। এসপি হিসেবে একাধিক জেলায় দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০০৮ সালে তিনি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ-এর উত্তরা জোনের ডিসি ছিলেন। এরপর জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালন করতে বিদেশে যান।
দেশে ফিরে তাকে রাজশাহী ডিআইজি অফিসে এসপি হিসেবে সংযুক্ত করা হয়। সেখানেই ২০২২ সালে তিনি বাধ্যতামূলক অবসরের আদেশ পান।
চাকরিচ্যুতি, পুনর্বহাল, পদোন্নতি—সব মিলিয়ে প্রায় তিন দশকের বেশি সময়ের কর্মজীবনে বহু চড়াই-উতরাই পার করেছেন আলী হোসেন ফকির। সেই দীর্ঘ পথ পেরিয়ে এবার দেশের পুলিশ বাহিনীর সর্বোচ্চ পদে তার অধিষ্ঠান।
পুলিশ সদরদপ্তরের আনুষ্ঠানিক কক্ষে দায়িত্বভার গ্রহণের মুহূর্তটি তাই কেবল একটি প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নয়—এটি ছিল এক দীর্ঘ সংগ্রামের পরিণতি।

