টিকটকে আসক্ত হয়ে পরকীয়ায় জড়িয়ে গোপালগঞ্জের গোবরা গ্রামের নিলারমাঠ এলাকায় নিজের সাড়ে তিন বছরের শিশু কন্যাকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এক মায়ের বিরুদ্ধে। হত্যার পর শিশুটির মরদেহ বাড়ির একটি ট্রাংকের ভেতরে লুকিয়ে রাখা হয়।
পুলিশ জানায়, অভিযুক্ত মা সেতু বেগমের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ১৭ দিন পর শনিবার রাতে ওই ট্রাংকের ভেতর থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেন গোপালগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. সাখাওয়াত হোসেন সেন্টু।
তিনি জানান, প্রায় সাড়ে তিন থেকে চার বছর আগে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার গোবরা গ্রামের নিলারমাঠ এলাকার রুবেল শেখের সঙ্গে টুঙ্গিপাড়া উপজেলার গজালিয়া গ্রামের হাসান মোল্লার মেয়ে সেতু বেগমের (২৫) বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের একমাত্র কন্যাসন্তান ফারিয়ার জন্ম হয়। জীবিকার তাগিদে রুবেল শেখ সৌদি আরবে কর্মরত রয়েছেন।
স্বামী প্রবাসে থাকার সুযোগে প্রায় ৬–৭ মাস আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকের মাধ্যমে ফরিদপুর সদরপুর উপজেলার মাঝকান্দি এলাকার জাফর মুন্সির ছেলে মিরাজ মুন্সির (২৪) সঙ্গে সেতু বেগমের পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে পরকীয়ার সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
পুলিশের ভাষ্যমতে, অবৈধ ওই সম্পর্কের ‘বাধা’ হিসেবে নিজের কন্যাকে সরিয়ে নিতে গত ২২ জানুয়ারি রাতে পরকীয়া প্রেমিক মিরাজ মুন্সির সহায়তায় সেতু বেগম নিজ বাড়িতেই ওড়না পেঁচিয়ে শিশু ফারিয়াকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। পরে মরদেহ একটি ট্রাংকের ভেতরে রেখে প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে যান তিনি।
শনিবার সন্ধ্যায় সেতু বেগমের মা ও মামা ঘটনার বিস্তারিত জানিয়ে তাকে ফরিদপুর থেকে এনে গোপালগঞ্জ সদর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। এরপর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রবাসী স্বামীর বাড়ি থেকে ট্রাংকের ভেতরে লুকানো শিশুটির পচাগলা মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আটক অভিযুক্ত সেতু বেগমকে রোববার আদালতে হাজির করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণ শেষে কারাগারে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ ঘটনায় জড়িত অপর আসামি মিরাজ মুন্সিকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

