বগুড়া-৪ (কাহালু–নন্দীগ্রাম) সংসদীয় আসনে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীর বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, তারা নির্বাচনী এলাকায় রঙিন ডিজিটাল ব্যানার ব্যবহার করে প্রচারণা চালাচ্ছেন, যা বিধিমালার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
এই আসনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী বগুড়া জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোস্তফা ফয়সাল পারভেজ, যিনি ছাত্রশিবিরের ঢাকা মহানগর কমিটির সাবেক সভাপতি।
নির্বাচনী আচরণবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় উল্লেখ আছে, প্রচারণার ব্যানার, লিফলেট ও ফেস্টুন সাদা-কালো হতে হবে এবং নির্ধারিত আকারের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। এসব উপকরণে প্রার্থীর নিজস্ব প্রতীক ও ছবি ছাড়া অন্য কারও ছবি বা প্রতীক ব্যবহার করা যাবে না। এছাড়া পিভিসি বা পলিথিন মোড়ানো ব্যানারও নিষিদ্ধ।
সম্প্রতি কাহালু সদর, মালঞ্চা ও তালোড়া বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে রঙিন ব্যানার ও ফেস্টুন টানানো অবস্থায় দেখা গেছে। কিছু ব্যানারে প্রার্থীর প্রতীক ও ছবি ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের ছবি এবং উন্নয়ন পরিকল্পনার তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে জামায়াত প্রার্থী মোস্তফা ফয়সাল পারভেজ বলেন, তাদের প্রচারণা কার্যক্রম নির্বাচনী মিডিয়া সেলের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে এবং বিধিমালা মেনেই ব্যানার ও বিলবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। তার দাবি, রঙিন বিলবোর্ড ব্যবহারে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই।
বিএনপি প্রার্থী মোশারফ হোসেনও আচরণবিধি মেনেই প্রচারণা চালানোর কথা জানান। তিনি বলেন, কোথাও নিয়ম ভেঙে রঙিন ব্যানার টানানো হয়নি, অনুমোদিত বিলবোর্ড ব্যবহার করা হচ্ছে।
কাহালু উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা কাশপিয়া তাসরিন জানান, আচরণবিধি অনুযায়ী রঙিন ব্যানার ও ফেস্টুন ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা রয়েছে এবং কাপড়ের ব্যানার ব্যবহারের নির্দেশনা আছে। তবে রঙিন বিলবোর্ড নির্দিষ্ট শর্তে স্থাপন করা যায় এবং সংখ্যাও সীমিত। বিষয়টি প্রশাসনের নজরদারিতে রয়েছে বলে তিনি জানান। বিধি লঙ্ঘনের প্রমাণ মিললে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বগুড়া-৪ আসনে বিএনপি ও জামায়াতের পাশাপাশি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুহাম্মদ ইদরিস আলী (হাতপাখা) এবং জাতীয় পার্টির শাহীন মোস্তফা কামাল (লাঙ্গল) প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৫৯ হাজার ৫২৩ জন। ভোটকেন্দ্র রয়েছে ১১৪টি এবং ভোটকক্ষ ৬৫৪টি।

