চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে পাঠিয়েছেন ৩১৭ কোটি মার্কিন ডলার, যা ডলার সংকট মোকাবিলায় বড় ধরনের স্বস্তি এনে দিয়েছে। প্রবাসী আয়ের এই ইতিবাচক প্রবণতার পাশাপাশি ব্যাংকগুলো থেকে অতিরিক্ত ডলার কিনে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ফলে দেশের মোট রিজার্ভ আবারও ৩৩ বিলিয়ন ডলারের ঘর অতিক্রম করেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ২ ফেব্রুয়ারি দিন শেষে দেশের গ্রস রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৩ দশমিক ২৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে। আর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম–৬ পদ্ধতিতে হিসাব করলে রিজার্ভের পরিমাণ ২৮ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলার। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র জানায়, প্রবাসী আয় বাড়ায় বর্তমানে ব্যাংকিং খাতে ডলারের সরবরাহ চাহিদার তুলনায় বেশি। এতে ডলারের দাম অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ডলার কিনছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
এই ধারাবাহিকতায় সোমবার মাল্টিপল প্রাইস অকশন (এমপিএ) পদ্ধতিতে ১৬টি ব্যাংক থেকে ২১ কোটি ৮৫ লাখ মার্কিন ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ ক্রয়ে ডলারের এক্সচেঞ্জ রেট ও কাট-অফ রেট নির্ধারণ করা হয় ১২২ টাকা ৩০ পয়সা।
সব মিলিয়ে চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরে এখন পর্যন্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে মোট ৪১৫ কোটি মার্কিন ডলার (৪.১৫ বিলিয়ন ডলার) কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, বাজারে ডলারের সরবরাহ বেশি থাকায় দাম পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। ডলারের দর কমে গেলে প্রবাসী আয় ও রপ্তানি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই বাজারের ভারসাম্য বজায় রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলার কিনছে। এর ফলে একদিকে মুদ্রাবাজার স্থিতিশীল থাকছে, অন্যদিকে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও শক্তিশালী হচ্ছে।

