মাঘ মাসের শুক্লপক্ষের পঞ্চমী তিথিতে আজ সারা দেশে পালিত হচ্ছে হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব সরস্বতীপূজা। শুক্রবার সকাল থেকেই রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মন্দির ও পূজামণ্ডপে বিদ্যা ও জ্ঞানের দেবী সরস্বতীর আরাধনায় ভক্ত ও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
পুষ্পাঞ্জলি অর্পণের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া পূজাকে কেন্দ্র করে মণ্ডপগুলো ঢাক-ঢোল, কাঁসর, শঙ্খধ্বনি ও উলুধ্বনিতে মুখর হয়ে উঠেছে। শাস্ত্রীয় বিধান অনুযায়ী এই তিথিতেই দেবী সরস্বতীর বন্দনা করা হয় বলে জানান আয়োজকরা।
হাতে বেদ ও বীণা ধারণকারী দেবী সরস্বতী ভক্তদের কাছে ‘বীণাপাণি’ নামেও পরিচিত। রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও পাড়া-মহল্লায় নান্দনিক সাজে নির্মিত হয়েছে পূজামণ্ডপ। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, দেবী সরস্বতীর কৃপায় অজ্ঞানতার অন্ধকার দূর হয়ে জ্ঞানের আলো বিকশিত হয়।
বিশেষ করে শিক্ষার্থীরা দেবীর আশীর্বাদ লাভের আশায় এদিন ব্রত পালন করেন এবং পূজা শেষে প্রসাদ গ্রহণ করেন। এ উপলক্ষে মন্দিরগুলোতে বিশেষ আরতি, প্রসাদ বিতরণ এবং ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
সরস্বতীপূজা উপলক্ষে দেশের হিন্দু সম্প্রদায়কে শুভেচ্ছা জানিয়ে বাণী দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। বাণীতে তিনি বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। দীর্ঘদিন ধরে এ দেশে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষ পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সৌহার্দ্যের সঙ্গে বসবাস করে আসছে। ধর্মীয় বিভাজন নয়, বরং জাতীয় ঐক্যই বাংলাদেশের মূল শক্তি—এমন মন্তব্য করেন তিনি।
উৎসব ঘিরে নিরাপত্তা নিশ্চিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মণ্ডপগুলোতে বাড়তি ব্যবস্থা নিয়েছে। ভক্তরা যাতে নির্বিঘ্নে পূজা সম্পন্ন করতে পারেন, সে লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
সরস্বতীপূজাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন স্থানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ধর্মীয় আলোচনা সভারও আয়োজন করা হয়েছে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির পরিবেশে এই উৎসব দেশের সামাজিক বন্ধন আরও দৃঢ় করবে বলে আশা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা।

