জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহত সবাইকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধারা যেমন দেশের স্বাধীনতা অর্জন করেছিলেন, ঠিক তেমনি ২০২৪ সালের জুলাই যোদ্ধারা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করেছেন।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহত প্রায় এক হাজার ৪০০ পরিবারের সদস্যদের আমন্ত্রণ জানানো হয়।
তারেক রহমান বলেন, নিরাপদ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে ব্যর্থ হলে ভবিষ্যতেও জাতিকে শোক সমাবেশ ও শোকগাথা লিখতে হবে। তাই শোকের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে গণতন্ত্রের বিজয়গাথা রচনার আহ্বান জানান তিনি।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। এতে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আব্দুস ছাত্তার পাটোয়ারী এবং তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান।
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতায় একটি পৃথক বিভাগ গঠন করা হবে, যার দায়িত্ব থাকবে জুলাই শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের দেখভাল করা। হারানো স্বজনদের ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের পরিবারের কষ্ট লাঘবে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব অবশ্যই পালন করা হবে।
দীর্ঘ দেড় দশকের আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে তারেক রহমান বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে হাজার হাজার মানুষ গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। শুধু জুলাই গণঅভ্যুত্থানেই দেড় হাজারের বেশি মানুষ শহীদ এবং প্রায় ৩০ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। অনেকেই স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ববরণ করেছেন। এসব হত্যাকাণ্ডকে তিনি গণহত্যা হিসেবে অভিহিত করেন।
তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান কোনো একক দল বা গোষ্ঠীর আন্দোলন ছিল না। এটি ছিল দল-মত-ধর্ম নির্বিশেষে সাধারণ মানুষের গণআন্দোলন, যার মূল লক্ষ্য ছিল জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করা।
আগামী জাতীয় নির্বাচনকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, একটি নিরাপদ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অপরিহার্য। জনগণের রায়ে বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে শহীদ ও আহতদের প্রতি দেওয়া প্রতিশ্রুতি পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। শেষে তিনি শহীদদের রুহের মাগফিরাত এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।

