সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত খনি প্রতিষ্ঠান সৌদি অ্যারাবিয়ান মাইনিং কোম্পানি (মা’আদেন) দেশে চারটি স্থানে নতুন করে ৭৮ লাখ আউন্স (২ লাখ ২১ হাজার কেজি) স্বর্ণ সম্পদের সন্ধান পেয়েছে। এ ঘোষণা দেশের খনিজ সম্পদের সম্প্রসারণ এবং বিশ্বমানের স্বর্ণ উৎপাদক হিসেবে সৌদি আরবের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগের অংশ হিসেবে এসেছে।
মা’আদেন জানিয়েছে, লক্ষ্যভিত্তিক খনন কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে ৯০ লাখ আউন্সের বেশি স্বর্ণসম্পদ পাওয়া গিয়েছিল। বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী সমন্বয়ের পর চূড়ান্তভাবে নতুন সম্পদ হিসেবে ৭৮ লাখ আউন্স স্বর্ণ সংযোজন হয়েছে।
নতুন স্বর্ণসম্পদ চারটি এলাকায় পাওয়া গেছে—মানসুরাহ–মাসারাহ, উরুক ২০/২১, উম্ম আস সালাম এবং ওয়াদি আল জাওয়ান। এর মধ্যে মানসুরাহ–মাসারাহ প্রকল্পে এক বছরে সর্বাধিক ৩০ লাখ আউন্স স্বর্ণ যোগ হয়েছে। উরুক ২০/২১ ও উম্ম আস সালাম থেকে এসেছে ১৬ লাখ ৭০ হাজার আউন্স, এবং ওয়াদি আল জাওয়ানে প্রথমবারের মতো ৩০ লাখ ৮০ হাজার আউন্স স্বর্ণের হিসাব যোগ হয়েছে।
মা’আদেনের সিইও বব উইল্ট বলেন, “এসব ফলাফল আমাদের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের সাফল্য প্রমাণ করছে। তাই আমরা সৌদি আরবের স্বর্ণসম্পদে বড় বিনিয়োগ অব্যাহত রেখেছি। নতুন সম্পদ সংযোজন আমাদের প্রকল্প পাইপলাইনের ধারাবাহিকতা ও সক্ষমতা তুলে ধরেছে এবং ভবিষ্যতের নগদ প্রবাহ নিশ্চিত করবে।”
২০২৬ সালের অনুসন্ধান কর্মসূচিতে মা’আদেন সেন্ট্রাল অ্যারাবিয়ান গোল্ড রিজিয়নে গুরুত্ব দিয়েছে। উন্নত পর্যায়ের খনন কার্যক্রমে নতুন খনিজ স্তর ও সম্ভাব্য খনি সম্প্রসারণের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ঐতিহাসিক মাহদ স্বর্ণখনি এলাকায় খননের মাধ্যমে খনির আয়ু বৃদ্ধির সম্ভাবনাও চিহ্নিত হয়েছে।
মানসুরাহ–মাসারাহ প্রকল্পে বর্তমানে আনুমানিক ১১ কোটি ৬০ লাখ টন আকরে প্রতি টনে ২.৮ গ্রাম স্বর্ণ রয়েছে, যার মোট পরিমাণ প্রায় ১ কোটি ৪ লাখ আউন্স। সাম্প্রতিক খনন কার্যক্রমে এক বছরে নিট ৩০ লাখ আউন্স স্বর্ণ সংযোজন হয়েছে। তবে খনির গভীরে এখনও আরও বড় স্বর্ণ আবিষ্কারের সম্ভাবনা রয়েছে।
মা’আদেন জানিয়েছে, ২০২৬ সালের মধ্যে খনন কার্যক্রম চলবে এবং পর্যায়ক্রমে নতুন তথ্য প্রকাশ করা হবে।

