আসন বণ্টন নিয়ে প্রায় এক মাসের টানাপোড়েনের পর চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে ছাড়াই ২৫৩ আসনে নির্বাচনী ঐক্যে পৌঁছেছে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)সহ ১০ দল। সমঝোতা অনুযায়ী জামায়াত ১৭৯ আসনে, এনসিপি ৩০ আসনে এবং শরিক অন্যান্য দলগুলো বাকি আসনগুলোতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।
এই সমঝোতায় মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশকে ২০টি, খেলাফত মজলিশের অপর অংশকে ১০টি, এলডিপিকে ৭টি, এবি পার্টিকে ৩টি এবং নেজামে ইসলাম পার্টি ও বিডিপিকে ২টি করে আসন ছাড় দেওয়া হয়েছে। তবে ঐক্যের অপর দুই শরিক জাগপা ও খেলাফত আন্দোলন কোনো আসন পায়নি। ভবিষ্যতে উচ্চকক্ষে (উচ্চ সংসদ) তাদের আসন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলনের জন্য ৪৭টি আসন ফাঁকা রাখা হয়েছে। দলটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঐক্যে যোগ না দিলেও জামায়াত নেতারা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, ইসলামী আন্দোলন শেষ পর্যন্ত জোটে যুক্ত হবে। তবে দলটি আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে জামায়াত কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠক এবং রাতে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন বর্জন করেছে।
ইসলামী আন্দোলন আগামীকাল শুক্রবার বিকেল ৩টায় দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করবে বলে জানিয়েছে। দলটি যদি শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী ঐক্যে যোগ না দেয়, তাহলে ফাঁকা রাখা ৪৭ আসনেও জামায়াত প্রার্থী দেবে। সে ক্ষেত্রে জামায়াত মোট ২২৬ আসনে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।
এর আগে গত বুধবার ঐক্যের একক প্রার্থী ঘোষণা করতে সংবাদ সম্মেলনের উদ্যোগ নিয়েছিল জামায়াতে ইসলামী। কিন্তু ইসলামী আন্দোলন এতে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় সংবাদ সম্মেলনটি স্থগিত করা হয়। জানা গেছে, জামায়াত ইসলামী আন্দোলনকে ৪৫টি আসন ছাড়তে রাজি ছিল। তবে ইসলামী আন্দোলন ৭০টির কম আসনে নির্বাচনী ঐক্যে রাজি হয়নি।
বরং বুধবার দলীয় বৈঠকের পর ইসলামী আন্দোলনের পক্ষ থেকে আভাস দেওয়া হয়, তারা মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন খেলাফত মজলিশ, নেজামে ইসলাম, খেলাফত মজলিশের অপর অংশ ও খেলাফত আন্দোলনসহ ইসলামী দলগুলোকে নিয়ে বিকল্প জোট গঠনের চিন্তাভাবনা করছে।

