কাপাসিয়া (গাজীপুর) প্রতিনিধি:
গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের বেগুনাটি সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসা সংলগ্ন প্রধান সড়কটি এখন যেন এক খরস্রোতা নদী। মাত্র একটি সরকারি কালভার্ট মাটি ফেলে বন্ধ করে দেওয়ার খামখেয়ালিপনায় তৈরি হয়েছে এই কৃত্রিম বন্যা। এতে তলিয়ে গেছে বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ, মাছের প্রজেক্ট ও ফলদ বাগান। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে বেশ কিছু পরিবার। প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও মিলছে না কোনো প্রতিকার, ফলে ক্ষোভে ও আহাজারিতে ফেটে পড়েছে স্থানীয় এলাকাবাসী।

আজ ১৭ মে, রবিবার সকালে সরেজমিনে এলাকায় গিয়ে দেখা যায় এক চরম দুর্দশার চিত্র। রানীগঞ্জ বাজার, তারাগঞ্জ বাজার, লাখপুর, শিবপুর, নরসিংদী, কাপাসিয়া সদর এবং গাজীপুর সদর হাসপাতালে যাতায়াতের একমাত্র প্রধান সড়কটির ওপর দিয়ে এখন প্রায় দুই থেকে তিন হাত উচ্চতায় পানি প্রবাহিত হচ্ছে। বিকল্প কোনো রাস্তা না থাকায় এই কর্দমাক্ত হাঁটু পানি মাড়িয়েই চরম ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন স্থানীয় ৫টি গ্রামের অন্তত ৫ হাজার মানুষ ও মাদ্রাসা-স্কুলের শিক্ষার্থীরা।
সবচেয়ে সংকটে পড়েছে এলাকার খেটে খাওয়া দিনমজুর পরিবারগুলো। আকস্মিক জলাবদ্ধতায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছে বেশ কয়েকটি পরিবার। যাদের পাকা ঘর নেই, মাটির দেওয়ালের ঘরই একমাত্র সম্বল, তাদের ঘরগুলো এখন চরম ঝুঁকিতে। মাটির দেওয়ালগুলো পানিতে ভিজে নরম হয়ে গেছে; যেকোনো মুহূর্তে ধসে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করা হচ্ছে। চলতি বৈশাখ মাসে এই এলাকাটি আম, লিচু ও কাঁঠালের বাম্পার ফলনের জন্য পরিচিত। কিন্তু আকস্মিক এই জলাবদ্ধতায় তলিয়ে গেছে মাঠের পাকা ধান, বিভিন্ন লিচু, আম ও কলাবাগান। সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছে মৎস্য চাষিরা। মাঠের পর মাঠ মাছের প্রজেক্ট ও পুকুর পানিতে ডুবে ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় কৃষকের স্বপ্নের পোষা মাছ সব ভেসে গেছে। ক্ষয়ক্ষতির এই বিশালত্বে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, মাঠে জমে থাকা পানি নিষ্কাশনের জন্য একটি সরকারি কালভার্ট ছিল। কিন্তু এলাকার মিয়ারউদ্দিন পাঠানের ছেলে তাইজুল ইসলাম পাঠান নামক এক ব্যক্তি সম্পূর্ণ অবৈধভাবে কালভার্টটিতে মাটি ফেলে পানি চলাচলের মুখ বন্ধ করে দিয়েছেন। এর ফলেই এই কৃত্রিম বন্যা ও জনদুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তামান্না তাসনীম কে কয়েক দফা ফোন করেও পাওয়া যায়নি। উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী ফারুক আহমেদ বলেন ঘটনাস্থলে আমি গিয়েছিলাম আমি ইউএনও স্যারকে বিষয়টি অবহিত করেছি।
ভুক্তভোগী স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক নুরুল হক, কৃষক কাজল মিয়া, মামুন মিয়া, জহিরুল হক, লাল মিয়া, বীর মুক্তিযোদ্ধা ফিরোজ মিয়া, সিরাজ মিয়া, লেহাজ উদ্দিন, শফিকুল ইসলাম ও সাখাওয়াত হোসেনসহ ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী জানান, এই চরম সংকট থেকে মুক্তি পেতে তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত দরখাস্ত ও আবেদন জানিয়েছেন। কিন্তু রহস্যজনকভাবে এখন পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ বা সুফল পাওয়া যায়নি। দ্রুত এই কালভার্টটি সচল করে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে সাধারণ মানুষকে মুক্ত করতে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।

