মো:ইলিয়াস সানি,তজুমদ্দিন (ভোলা) প্রতিনিধি:
ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলায় সমুদ্রগামী জেলে ও ভিজিডি কর্মসূচির জন্য বরাদ্দকৃত বিপুল পরিমাণ সরকারি চাল ডেলিভারি অর্ডার (ডিও) ইস্যুর পরও সময়মতো উত্তোলন করা হয়নি। ফলে ডিওর মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও প্রায় ৩৪০ টন ৫০০ কেজি চাল সরকারি খাদ্যগুদামে পড়ে রয়েছে।
এতে একদিকে সরকারি খাদ্য ব্যবস্থাপনা ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে প্রকৃত উপকারভোগীরা সময়মতো খাদ্য সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয় ভিজিডি কর্মসূচির আওতায় প্রতি মাসে বরাদ্দকৃত চাল উত্তোলনের জন্য ডিও ইস্যু করে থাকে। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চাল উত্তোলন না হওয়ায় বর্তমানে প্রায় ১৫৫ টন ভিজিডি চাল গুদামে পড়ে আছে।
গুদাম সূত্রে জানা গেছে, মেয়াদোত্তীর্ণ ভিজিডি চালের মধ্যে রয়েছে,চাঁদপুর ইউনিয়নের ৫ মাসের, চাঁচড়া ইউনিয়নের ৩ মাসের, বড়মলংচড়া ইউনিয়নের ৪ মাসের, সোনাপুর ইউনিয়নের ১ মাসের এবং শম্ভুপুর ইউনিয়নের ২ মাসের বরাদ্দের চাল। এছাড়া জুন মাসের ডিওও ইস্যু করা হয়েছে।
অন্যদিকে সমুদ্রগামী জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত চালের মধ্যে চাঁদপুর ইউনিয়নে ১০ টন, সোনাপুরে ৭৫ টন, চাঁচড়ায় ১৪ টন, বড়মলংচড়ায় ৬.৫ টন এবং শম্ভুপুরে ৪ টনসহ মোট বিপুল পরিমাণ চাল এখনও গুদামেই রয়েছে। মে মাসের ৩১ তারিখের মধ্যে এসব চাল বিতরণের সময়সীমা শেষ হলেও তা এখনো উত্তোলন করা হয়নি।এ পরিস্থিতিতে নতুন খাদ্যশস্য সংরক্ষণ ও ধান সংগ্রহ কার্যক্রম নিয়েও গুদাম কর্তৃপক্ষ উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ডিও ইস্যুর পর চাল উত্তোলনে দীর্ঘসূত্রিতা থাকলেও বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর তদারকি চোখে পড়ছে না। ফলে সরকারি খাদ্যশস্য দীর্ঘদিন গুদামে পড়ে থেকে সংরক্ষণ সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সচেতন মহলের মতে, ডিও ইস্যুর মূল উদ্দেশ্য হলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে খাদ্যশস্য উত্তোলন ও উপকারভোগীদের মাঝে বিতরণ নিশ্চিত করা। কিন্তু মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও চাল গুদামে পড়ে থাকা প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও সমন্বয়হীনতার ইঙ্গিত দেয়। এ বিষয়ে স্বচ্ছ ব্যাখ্যা ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
উপকারভোগীদের অভিযোগ, বরাদ্দের চাল কাগজে-কলমে থাকলেও বাস্তবে তারা তা হাতে পাননি। ফলে সরকারের জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির সুফল প্রত্যাশিতভাবে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে না।
এ বিষয়ে চাঁদপুর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. শাজাহান মিয়া বলেন,“ভিজিডি চাল পরিবহনের জন্য সরকার টনপ্রতি ৪৮০ টাকা বরাদ্দ দেয়। কিন্তু বাস্তবে পরিবহন ব্যয় এর চেয়ে বেশি হওয়ায় চাল গুদাম থেকে আনা সম্ভব হয়নি। আশা করছি দ্রুত এ সমস্যার সমাধান হবে।”
উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা কানিজ মার্জিয়া বলেন,“আমার জানা মতে ডিও হওয়া অধিকাংশ চাল বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে। তবে পরিবহন ব্যয়ের কারণে কোনো ইউনিয়ন চাল উত্তোলনে সমস্যায় পড়লে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আব্দুল মালেক বলেন,“ডিও ইস্যুর পর চাল উত্তোলনের জন্য আমরা নিয়মিত ইউনিয়ন পরিষদ ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে তাগিদ দিচ্ছি। তবে তারা চাল না নিলে আমাদের কিছু করার থাকে না। মেয়াদোত্তীর্ণ চাল গুদামে সংরক্ষণের বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট নীতিমালা নেই।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. বনি আমিন বলেন,“ডিও হওয়া সব চাল দ্রুত গুদাম থেকে উত্তোলন করে উপকারভোগীদের মাঝে বিতরণের ব্যবস্থা করা হবে।”
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে গুদামে পড়ে থাকা চাল প্রকৃত উপকারভোগীদের হাতে পৌঁছাবে এবং সরকারের খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির উদ্দেশ্য বাস্তবায়িত হবে।

