সত্যজিৎ দাস (মৌলভীবাজার):
মৌলভীবাজারের বড়লেখায় নিষিদ্ধ ঘোষিত উগ্রবাদী সংগঠন “মাকতাবাহ আল হিম্মাহ আদদাওয়াতুল ইসলামিয়াহ”-এর এক সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃত মোঃ রাহেদ হোসেন মাহেদ (২৩) বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চাকরিচ্যুত সদস্য বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
বুধবার (১৪ মে) দুপুরে বড়লেখা উপজেলার দুর্গম বোবারথল ষাইটঘরি এলাকার একটি উঁচু টিলা থেকে প্রায় ১২ ঘণ্টাব্যাপী সতর্কতামূলক বিশেষ অভিযানের পর তাকে গ্রেফতার করা হয়। মাহেদ সিলেটের বিশ্বনাথ থানার দশঘর এলাকার নুর মিয়ার ছেলে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে,বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত, জাতীয় সংসদসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এবং নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর সম্ভাব্য উগ্রবাদী হামলার পরিকল্পনার বিষয়ে গত ২৩ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স থেকে গোয়েন্দা সতর্কতা জারি করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়,নিষিদ্ধ ঘোষিত উগ্রবাদী সংগঠনের সদস্য মাহেদ সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে।
প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এবং চলমান ‘রেড অ্যালার্ট’ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে মৌলভীবাজার জেলা পুলিশ সুপার মোঃ রিয়াজুল ইসলামের নির্দেশনায় বড়লেখা থানার অফিসার ইনচার্জ মনিরুজ্জামান খানের নেতৃত্বে একটি বিশেষ পুলিশ দল দুর্গম এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের একপর্যায়ে মাহেদকে আটক করা হয়।
পরবর্তীতে যাচাই-বাছাইয়ে জানা যায়, গ্রেফতারকৃত মাহেদ কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের তদন্তাধীন একটি মামলার আসামি। মামলাটি শাহবাগ থানায় দায়ের করা হয়েছিল (মামলা নং-২,তারিখ: ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) এবং এতে সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯ (সংশোধিত ২০১৩)-এর ৮/৯/১০/১৩ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।
সিটিটিসি ইউনিটের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে একই দিন রাত সাড়ে ১১টায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে সিটিটিসির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মাহেদ উগ্রবাদী সংগঠনের সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এছাড়া রেড অ্যালার্ট জারির পর থেকেই সে আত্মগোপনে ছিল এবং সম্প্রতি অবৈধভাবে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল বলেও জানা গেছে।
এ বিষয়ে মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মোঃ রিয়াজুল ইসলাম বলেন,“দেশের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে জেলা পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। যেকোনো ধরনের উগ্রবাদ ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি ও বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

