দিনাজপুর প্রতিনিধি:
দিনাজপুরের বিরল উপজেলার সীমান্তঘেঁষা পুনর্ভবা নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়া ইসমাইল হক (৬০) নামের এক জেলের মরদেহ ১১ দিন পর ভারতের পশ্চিমবঙ্গে শনাক্ত হয়েছে। দীর্ঘ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ও পরিবারের দৌড়ঝাঁপ শেষে আজ মঙ্গলবার (১২ মে) হিলি সীমান্ত দিয়ে তাঁর মরদেহ দেশে হস্তান্তরের কথা রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১ মে শুক্রবার বিকেল তিনটার দিকে বাড়ির পাশের পুনর্ভবা নদীতে ফিকা জাল (ঝাঁই জাল) নিয়ে মাছ ধরতে যান বিরল উপজেলার কামদেবপুর গ্রামের বাসিন্দা ইসমাইল হক।
তিনি পুনভর্বা লালমাটিয়া স্লুইসগেটসংলগ্ন এলাকায় মাছ ধরছিলেন। পুণর্ভবা নদী টি ভারতে প্রবেশ করেছে। সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত হলেও বাড়ি না ফেরায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে পরিবার। পরে স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।
পরদিন শনিবার (২ মে) থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। একই দিন ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল নদীতে অভিযান চালালেও তাঁর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
নিখোঁজের কয়েকদিন পর ভারতীয় একটি গণমাধ্যমে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধারের খবর প্রকাশিত হয়। পরে সেই সংবাদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ইসমাইল হকের পরিবারের সন্দেহ হয়। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের জয়দেবপুর গ্রামের বাসিন্দা আরমান নামের এক ব্যক্তির ফেসবুক পোস্ট দেখে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা শুরু করেন স্বজনরা।
পরবর্তীতে ভারতে অবস্থানরত ইসমাইলের আত্মীয় এনামুল হক গঙ্গারামপুর থানায় গিয়ে মরদেহটি শনাক্ত করেন। পরে পরিবারের সদস্যরাও ছবির মাধ্যমে নিশ্চিত হন, সেটি ইসমাইল হকেরই মরদেহ।
নিহতের ছোট ছেলে হায়দার আলী জানান, স্লুইসগেটের কপাট খুলে দেওয়ার পর নদীর প্রবল স্রোতে তাঁর বাবা ভেসে যেতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। লালমাটিয়া এলাকা থেকে প্রায় চার কিলোমিটার দূরে নদীটি ভারতীয় সীমান্তে প্রবেশ করেছে। সেখান থেকেই মরদেহ ভেসে ভারতের অভ্যন্তরে চলে যায়।
তিনি আরও জানান, বাবার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে গত ৫ মে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়। পরে বিভিন্ন প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে আজ মঙ্গলবার হিলি সীমান্ত দিয়ে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের কথা রয়েছে।
তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নির্দেশনা পাওয়ার কথা জানায়নি জেলা প্রশাসন। দিনাজপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রিয়াজ উদ্দিন বলেন, “লাশ হস্তান্তরের বিষয়ে এখনো আমাদের কাছে আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য আসেনি। বিজিবি ও সংশ্লিষ্ট থানার সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছে। তবে ভারতীয় আইনি প্রক্রিয়া চলমান থাকায় বিষয়টি সময়সাপেক্ষ হচ্ছে।
জানা গেছে, সীমান্ত থেকে প্রায় ১৮ কিলোমিটার ভেতরে নদীতে মরদেহটি উদ্ধার হওয়ায় ভারতীয় আইন অনুযায়ী গঙ্গারামপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ইসমাইল হক তিন মেয়ে ও দুই ছেলের জনক ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে নদীতে মাছ ধরেই পরিবারের জীবিকা নির্বাহ করতেন তিনি। তাঁর মর্মান্তিক মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। এলাকাবাসীর মাঝেও বিরাজ করছে গভীর বেদনা।

