ঘোড়াঘাট, দিনাজপুর, প্রতিনিধি:
ঘরের উঠান, আঙিনা আর স্থানীয় সড়ক ডুবে আছে পানিতে। কোথাও হাঁটুপানি, কোথাও তারও বেশি। টানা বর্ষণে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট পৌরসভার পাঁচটি এলাকার প্রায় দেড় হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। দুর্ভোগে থাকা এসব মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে নিজস্ব অর্থায়নে পানি নিষ্কাশনের উদ্যোগ নিয়েছেন পৌর বিএনপির সভাপতি আব্দুস সাত্তার মিলন।
জলাবদ্ধতা কমাতে সাতটি শ্যালো মেশিন ব্যবহার করে ড্রেনেজ ব্যবস্থার মাধ্যমে জমে থাকা পানি অপসারণের কাজ শুরু করা হয়েছে। সোমবার (১৩ জুলাই) তিনি পৌরসভার বিভিন্ন পানিবন্দি এলাকা ঘুরে দেখেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সঙ্গে কথা বলেন।
স্থানীয়রা জানান, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় ঘোড়াঘাট পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। এবারও টানা বৃষ্টির পর গুচ্ছগ্রাম, বালুপাড়া, নয়াপাড়া ও বাগানবাড়িসহ কয়েকটি এলাকায় পানি জমে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।
গুচ্ছগ্রাম এলাকার বাসিন্দা ইফতাদুল বলেন, ‘দুই দিন ধরে বাড়ির উঠানসহ আশপাশে হাঁটুসমান পানি জমে আছে। ছোট সন্তানদের নিয়ে খুব কষ্টে আছি। মিলন ভাই এসে খোঁজ নিয়েছেন এবং দ্রুত পানি সরানোর ব্যবস্থা করেছেন।’
নয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা সেফালি বলেন, ‘প্রতিবছর বৃষ্টির পর পানি জমে থাকে। পানি বের হওয়ার ব্যবস্থা না থাকায় সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হয়। বাড়িঘর, রাস্তা সব জায়গায় পানি থাকায় নারী, শিশু ও বয়স্কদের বেশি ভোগান্তি পোহাতে হয়। এর স্থায়ী সমাধান দরকার।’
আব্দুস সাত্তার মিলন বলেন, ‘দুর্যোগের সময়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের দায়িত্ব। পানিবন্দি মানুষের কষ্ট কমাতে ব্যক্তিগত উদ্যোগে যতটুকু সম্ভব সহযোগিতা করছি। তবে জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানের জন্য পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি।’
স্থানীয়দের দাবি, পৌর এলাকার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন ও স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণ করা হলে প্রতিবছরের বর্ষায় সৃষ্ট জলাবদ্ধতা থেকে মানুষ অনেকটাই রক্ষা পাবে।

