নিজস্ব প্রতিবেদক, কুষ্টিয়া:
কুষ্টিয়ায় ফেসবুকের ভুয়া আইডি নিয়ে বিরোধের জেরে মনিরুল ইসলাম (৩২) নামে এক যুবককে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে। হামলায় তার একটি কান বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি হয়। বর্তমানে তিনি কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সন্ধ্যা ৭টার দিকে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হরিনারায়ণপুর ইউনিয়নের বেড়বাড়াদি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত জামিরুল ইসলাম একই গ্রামের বাসিন্দা এবং আমিরুল ইসলামের ছেলে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীর পরিবারের দাবি, প্রায় ছয় মাস আগে মনিরুল ইসলামের নাম ও ছবি ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি ভুয়া আইডি খোলা হয়। ওই আইডি থেকে রাষ্ট্রবিরোধী বিভিন্ন পোস্ট দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে অর্থ দাবি ও ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে মনিরুল নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সে সময় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
ভুক্তভোগীর স্বজনরা জানান, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় মনিরুল প্রতিবেশী জামিরুলের কাছে তার মোবাইল ফোন দেখতে চান এবং থানায় নিয়ে যাচাই করার কথা বলেন। এ সময় উভয়ের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে জামিরুল ঘর থেকে ধারালো দেশীয় অস্ত্র এনে মনিরুলের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ করা হয়।
হামলায় মনিরুলের একটি কান বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এছাড়া তার হাত ও পায়ে একাধিক স্থানে কোপের আঘাত লাগে। চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে দ্রুত কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মনিরুল অভিযোগ করে বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে আমার নাম ব্যবহার করে ভুয়া ফেসবুক আইডি পরিচালনা করা হচ্ছিল। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলার কারণেই আমার ওপর এই হামলা চালানো হয়েছে। ঘটনার পরও আমাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে।”
কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ইকবাল হাসান বলেন, “রোগীর একটি কান সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। এছাড়া হাত ও পায়ে ধারালো অস্ত্রের আঘাতজনিত ক্ষত রয়েছে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে তিনি আশঙ্কামুক্ত রয়েছেন।”
এদিকে ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্ত জামিরুলের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাড়া মেলেনি।
ঘটনার বিষয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ভুক্তভোগী পরিবার জানিয়েছে, হামলার ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।
স্থানীয় সচেতন মহল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া পরিচয় ব্যবহার, সাইবার অপরাধ এবং এ ধরনের সহিংস ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

