ভূমিকম্পের পর মিয়ানমারে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মান্দালয় শহর, যেখানে প্রায় ১.৫ মিলিয়ন মানুষ বাস করে, সেখানে অনেক ভবন ধসে পড়েছে এবং রাস্তাঘাটে ফাটল দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থাও ব্যাহত হয়েছে।
মিয়ানমারের সামরিক সরকার ভূমিকম্পের পর জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে এবং তারা আল-শরিয়া সহ ছয়টি অঞ্চলে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করেছে। একাধিক উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে এবং বিভিন্ন প্রকার যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে ধ্বংসস্তূপের মধ্যে আটকা পড়াদের উদ্ধারের চেষ্টা করছে।
ব্যাংককে, অ unfinished high-rise building ধসে পড়ে, এবং ৮১ জন শ্রমিক নিখোঁজ হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। থাইল্যান্ডের উপ-প্রধানমন্ত্রী জানান, উদ্ধার কাজ দ্রুত গতিতে চলছে এবং অন্যান্য সহায়তা সরঞ্জামও পাঠানো হয়েছে। ব্যাংককের ভবনগুলো বেশিরভাগই ভূমিকম্প সহনীয় নয়, তাই সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বড় হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
চীনে দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলে ভূমিকম্পের প্রভাব অনুভূত হলেও সেখানে বড় ধরনের ক্ষতির খবর এখনও আসেনি। থাইল্যান্ডের এক সাংবাদিক, বুই থু, বিবিসির সঙ্গে আলাপকালে বলেন, “আমি বাড়িতে রান্না করছিলাম, হঠাৎ ভূমিকম্প অনুভব করলাম। খুব আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলাম, কারণ ব্যাংককের ভবনগুলো ভূমিকম্পের জন্য যথেষ্ট শক্তিশালী নয়।”
মিয়ানমারের ইন্টারনেট ও সংবাদ মাধ্যমের উপর সামরিক সরকারের নিয়ন্ত্রণ থাকার কারণে বিশ্বজুড়ে সঠিক তথ্য পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। ইন্টারনেট ব্যবহারে বিধিনিষেধ থাকার কারণে স্থানীয় মানুষদের জন্য পরিস্থিতি সম্পর্কে সঠিক তথ্য পেতে সমস্যা হচ্ছে, যা উদ্ধার কার্যক্রমের গতিতে ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে।
এটি মিয়ানমারের জন্য একটি বড় মানবিক সংকট হতে চলেছে, যেখানে ভূমিকম্পের তীব্রতা ও ধ্বংসযজ্ঞ পৃথিবীজুড়ে দৃষ্টিগোচর হচ্ছে।

নেইপিদো, মিয়ানমার (২৮ মার্চ ২০২৫):
মিয়ানমারের কেন্দ্রীয় অঞ্চলে ৭.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে বলে জানিয়েছে ইউনাইটেড স্টেটস জিওলজিক্যাল সার্ভে (USGS)।ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল সাগাইং শহরের উত্তর-পশ্চিমে ১৬ কিলোমিটার (১০ মাইল) দূরে, ভূ-পৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে। ফলে কম গভীরতায় হওয়ায় ভূমিকম্পের প্রভাব মারাত্মকভাবে অনুভূত হয়েছে।
ভূমিকম্পের প্রভাব:
🔹 মিয়ানমার:
- মান্দালয় শহরে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ, উদ্ধারকারীদের মতে নিহতের সংখ্যা শতাধিক হতে পারে।
- রাজধানী নেইপিদোতে সড়কগুলো ফেটে গেছে, বাড়িঘর ভেঙে পড়েছে।
- সামরিক সরকার ছয়টি অঞ্চলে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে।
🔹 থাইল্যান্ড:
- ভূমিকম্পের শত শত মাইল দূরে ব্যাংককে একটি বহুতল ভবন ধসে পড়ে, যেখানে ৮১ জন শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছে।
- থাইল্যান্ডের উপ-প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে এবং আরও ভারী যন্ত্রপাতি মোতায়েন করা হয়েছে।
🔹 চীন:
- ভূমিকম্পের কম্পন দক্ষিণ-পশ্চিম চীনেও অনুভূত হয়েছে, তবে এখনো বড় ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিজ্ঞতা
মিয়ানমারের মান্দালয়ের এক উদ্ধারকর্মী বলেছেন, “ধ্বংসের মাত্রা বিশাল। মৃতের সংখ্যা শতাধিক হতে পারে।”
ইয়াঙ্গুনের বাসিন্দা সো লুইন বলেছেন, “আমি দীর্ঘ সময় ধরে ভূমিকম্প অনুভব করেছি। এখন সবাই আতঙ্কিত, কারণ আরও আফটারশক হতে পারে।”
থাইল্যান্ডের ব্যাংককে বসবাসরত বিবিসি সাংবাদিক বুই থু বলেছেন, “আমি রান্না করছিলাম, তখনই ভূমিকম্প শুরু হয়। আমি খুব নার্ভাস হয়ে পড়েছিলাম। ব্যাংককের ভবনগুলো ভূমিকম্পের জন্য ডিজাইন করা নয়, তাই এখানে বড় ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।”
মিয়ানমারের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও তথ্যপ্রবাহে সমস্যা
মিয়ানমার ২০২১ সালে সেনা অভ্যুত্থানের পর থেকে