ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা সাম্প্রতিক স্মরণকালের ভয়াবহ জোড়া ভূমিকম্পে হাজার হাজার মানুষ প্রাণহানি ও নিখোঁজের ট্র্যাজেডিতে পড়েছেন। আর এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে এক চরম ব্যক্তিগত ও হৃদয়বিদারক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন আর্জেন্টাইন পেশাদার ফুটবলার লুকাস ত্রেহো।
ভূমিকম্পে ত্রেহোর বাসস্থান পুরোপুরি ধসে পড়েছে এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে নিখোঁজ রয়েছেন তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তান। তাঁদের অক্ষত অবস্থায় খুঁজে পেতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফুটবলপ্রেমী ও বিশ্ববাসীর কাছে এক আবেগঘন আকুতি জানিয়েছেন এই আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার।
গত বুধবার (২৪ জুন ২০২৬) রাতে ল্যাটিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় রিখটার স্কেলে ৭.২ এবং ৭.৫ মাত্রার দুটি অত্যন্ত শক্তিশালী ও বিধ্বংসী ভূমিকম্প আঘাত হানে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এই দুর্যোগে এখন পর্যন্ত ১৬৪ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে এবং আহত হয়েছেন এক হাজারেরও বেশি মানুষ। তবে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের দেওয়া সবচেয়ে ভয়ংকর তথ্য হলো, ধসে পড়া হাজার হাজার ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে বর্তমানে প্রায় ১১ হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।
ভেনেজুয়েলার দ্বিতীয় বিভাগের ফুটবল ক্লাব ‘স্পোর্ট মারিতিমো লা গুইরা’র হয়ে খেলছেন ৩৮ বছর বয়সী অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার লুকাস ত্রেহো। তিনি জানান, ভেনেজুয়েলার প্লায়া গ্রান্দে (Playa Grande) এলাকায় তাঁরা সপরিবারে বসবাস করতেন। বুধবার রাতের সেই শক্তিশালী ভূকম্পনে তাঁদের বহুতল ভবনটি তাসের ঘরের মতো পুরোপুরি ধসে পড়ে।
ভয়াবহ এই ঘটনার পর থেকেই ত্রেহো তাঁর স্ত্রী ইয়ানিনা মারানেয়া এবং দুই সন্তান অ্যারন ও আইনহোয়ার কোনো খোঁজ পাচ্ছেন না। তারা ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছেন নাকি অন্য কোথাও আছেন, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
নিজের ভেরিফাইড ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে নিখোঁজ পরিবারের ছবি শেয়ার করে ত্রেহো লিখেছেন:
“প্লায়া গ্রান্দেতে আমাদের প্রিয় ভবনটি ধসে পড়েছে। আমি আমার পরিবারের কোনো খবর জানি না। দয়া করে সবাই মন থেকে তাদের জন্য ঈশ্বরকে ডাকুন, প্রার্থনা করুন। কেউ যদি তাদের কোথাও দেখে থাকেন, তবে এই বার্তাটি চারদিকে ছড়িয়ে দিন। আমি মনে-প্রাণে বিশ্বাস করতে চাই, ভূমিকম্পের সময় তারা ভবনের ভেতরে ছিল না। দয়া করে আমার নিষ্পাপ পরিবারটির জন্য আপনারা প্রার্থনা করুন।”
লুকাস ত্রেহোর এই হৃদয়বিদারক পোস্টটি মুহূর্তের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। আর্জেন্টিনা, ভেনেজুয়েলাসহ ল্যাটিন আমেরিকা ও বিশ্ব ফুটবলের হাজার হাজার সমর্থক এবং বিভিন্ন ক্লাবের সতীর্থ খেলোয়াড়েরা ত্রেহোর পরিবারের অলৌকিক ও নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের জন্য প্রার্থনা করছেন।
ক্যারিয়ারের শেষ পর্যায়ে এসে বছরের পর বছর ধরে ভেনেজুয়াতেই ফুটবল খেলছেন ত্রেহো। কিন্তু শেষ বয়সের এই প্রবাস জীবনে এসে এমন এক অপূরণীয় ব্যক্তিগত বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয়েছেন তিনি, যা মূলত ভেনেজুয়েলার বর্তমান ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হাজারো অসহায় পরিবারের বোবা কান্নারই এক জলজ্যান্ত প্রতিচ্ছবি।

