ভারতীয় সংগীত ইতিহাসের একটি মহিমান্বিত অধ্যায়ের অবসান ঘটল। লতা মঙ্গেশকরের পর তাঁর বোন, সুরের সম্রাজ্ঞী আশা ভোঁসলে ৯২ বছর বয়সে পাড়ি জমালেন না ফেরার দেশে। কিংবদন্তি এই গায়িকার মৃত্যুসংবাদ পাওয়ার পর থেকেই শোকে পাথর হয়ে গেছেন প্রখ্যাত পপ ও জ্যাজ সংগীতশিল্পী ঊষা উত্থুপ। প্রিয় ‘আশাদি’-র প্রয়াণে তিনি প্রায় বাকশক্তি হারিয়ে ফেলেছেন।
প্রথমবার নাতির কাছ থেকে দুঃসংবাদটি শুনে বিশ্বাসই করতে পারেননি ঊষা। তিনি আবেগতাড়িত হয়ে বলেন, “শুনে আমি স্তব্ধ হয়ে গেলাম। আশাদির মতো মানুষের সঙ্গে ‘প্রয়াত’ কথাটা বলতে আমার ভালো লাগে না। কিন্তু পৃথিবীর নিয়ম তো খণ্ডানো যায় না।”
ঊষা উত্থুপ আরও যোগ করেন যে, তাঁর মেয়েও নিয়মিত আশাদির শারীরিক অবস্থার খোঁজ রাখছিলেন। তাঁরা আশা করেছিলেন প্রিয় শিল্পী সুস্থ হয়ে ফিরবেন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, “আশাদি ছিলেন আমাদের সবার অনুপ্রেরণা। এমন কোনো অনুষ্ঠান নেই যেখানে আমি ‘দম মারো দম’ গানটা শুনিনি। সেই কণ্ঠ স্তব্ধ হয়ে গেল ভাবতেই পারছি না।”
আশা ভোঁসলের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এছাড়া হৈমন্তী শুক্লসহ ভারতের প্রবীণ ও নবীন সকল শিল্পীই এই নক্ষত্রপতনে শোকস্তব্ধ। সবার কণ্ঠেই প্রতিধ্বনিত হচ্ছে এক স্বর্ণযুগের অবসানের বেদনা।
বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছিলেন আশা ভোঁসলে। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় গত শনিবার তাঁকে মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। সেখানেই রোববার দুপুরে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর মৃত্যুতে ‘কতরা কতরা জিনে দো’ কিংবা ‘ইজাজত’-এর মতো কালজয়ী সৃষ্টির কারিগর চিরদিনের জন্য নীরব হয়ে গেলেন।
সুরের ভুবনে আশা ভোঁসলে যে আলোকবর্তিকা জ্বালিয়ে গেছেন, তা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে সংগীতপ্রেমীদের পথ দেখিয়ে যাবে।

