আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে। ইরান দাবি করেছে, দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলার প্রতিবাদে তারা আবারও হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতেই রোববার সুইজারল্যান্ডে সরাসরি আলোচনায় বসতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। আলোচনায় মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। অন্যদিকে ইরানের প্রতিনিধি দলে রয়েছেন দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।
এই বৈঠকে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় অংশ নিচ্ছে পাকিস্তান। দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরও আলোচনায় উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত প্রাথমিক সমঝোতা চুক্তির পর এটি প্রথম উচ্চপর্যায়ের বৈঠক। আলোচনায় পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর রাখার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।
এরই মধ্যে দক্ষিণ লেবাননে নতুন করে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ৪৭ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ইসরায়েলি বাহিনী জানিয়েছে, তারা হিজবুল্লাহর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে হিজবুল্লাহ এসব হামলাকে বৃহত্তর যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা ভণ্ডুল করার চেষ্টা বলে অভিযোগ করেছে।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসি দাবি করেছে, লেবাননে ইসরায়েলি হামলা যুদ্ধবিরতি চুক্তির লঙ্ঘন। এ কারণেই হরমুজ প্রণালী বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম জানিয়েছে, শনিবারও প্রণালী দিয়ে কয়েক ডজন বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করেছে এবং তেল পরিবহন অব্যাহত রয়েছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন কোটি কোটি ব্যারেল তেল বিশ্ববাজারে সরবরাহ করা হয়। ফলে এই নৌপথে যেকোনো ধরনের অস্থিরতা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এদিকে সুইজারল্যান্ডের বৈঠক থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান নতুন কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারে কি না, সেদিকে নজর রাখছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়।

