ব্যাংককে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশন (এসকাপ)-এর ৮২তম অধিবেশন শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) শেষ হয়েছে।
এ অধিবেশনে টেকসই বায়োইকোনমি বা জৈব অর্থনীতি নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব গ্রহণে নেতৃত্ব দেয় বাংলাদেশ। ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের নেতৃত্বে এই উদ্যোগটি উত্থাপন করা হয়।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সদস্য দেশগুলোর সর্বসম্মত সমর্থনে ‘সাসটেইনেবল বায়োইকোনমির দিকে রূপান্তরকে সহায়তা’ শীর্ষক রেজুলেশনটি গৃহীত হয়েছে। এ অর্জনকে আঞ্চলিক উন্নয়ন নীতিনির্ধারণে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রেজুলেশনটিতে টেকসই ও উদ্ভাবননির্ভর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, সম্পদের কার্যকর ব্যবহার এবং সার্কুলার অর্থনীতির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনৈতিক রূপান্তরের বিষয়েও জোর দেওয়া হয়।
এছাড়া এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে জ্ঞান বিনিময়, দক্ষতা বৃদ্ধি, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং বায়োইকোনমি খাতে আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানানো হয়।
অধিবেশনে বক্তব্যে মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, বায়োইকোনমি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
এ উদ্যোগে ভারত, চীন, নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপসহ একাধিক দেশ সহ-সমর্থক হিসেবে যুক্ত হয়, যা আঞ্চলিক ঐকমত্যের প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে।
অধিবেশনে আরও সামাজিক উন্নয়ন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের বিষয়ে ‘বাকু-ব্যাংকক ঘোষণা’ গৃহীত হয়, যেখানে টেকসই ও সমন্বিত উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।

