সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) তেল উৎপাদনকারী জোট ওপেক এবং ওপেক প্লাস থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এই জোট মূলত বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে দাম স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে আসছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইউএই’র এই সিদ্ধান্ত স্বল্পমেয়াদি বাজার অস্থিরতা থেকে শুরু করে দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত পরিবর্তন পর্যন্ত জ্বালানি খাতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এটি তেল রপ্তানিকারক জোটগুলোর জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে, বিশেষ করে সৌদি আরবের জন্য, যারা জোটের অনানুষ্ঠানিক নেতৃত্বে রয়েছে।
বর্তমানে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এমন এক সময়ে এই চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হলো, যখন ইরানকে ঘিরে আঞ্চলিক উত্তেজনা ও সংঘাত আন্তর্জাতিক তেল বাজারে ব্যাপক অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক অর্থনীতিও চাপে রয়েছে।
উপসাগরীয় অঞ্চলে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে বাধা এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি তেল সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও সংকটের দিকে ঠেলে দিয়েছে। বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও তরল প্রাকৃতিক গ্যাসের বড় একটি অংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরানের হুমকি ও নৌপথে হামলার ঘটনায় এই গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য রুটে ঝুঁকি আরও বেড়েছে। পাশাপাশি ইউএই অভিযোগ করেছে, ইরানি হামলার পরেও কিছু আঞ্চলিক মিত্র দেশ তাদের যথাযথ সহায়তা দেয়নি, যা তাদের এই সিদ্ধান্তে ভূমিকা রেখেছে।
উল্লেখ্য, ১৯৬০ সালে প্রতিষ্ঠিত ওপেক বর্তমানে বিশ্বের মোট তেল উৎপাদনের এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি নিয়ন্ত্রণ করে আসছে।
এদিকে ওপেকের বর্তমান সদস্য দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে সৌদি আরব, আলজেরিয়া, ইরান, ইরাক, কুয়েত, লিবিয়া, নাইজেরিয়া, ভেনেজুয়েলা, গ্যাবন, কঙ্গো প্রজাতন্ত্র এবং ইকুইটোরিয়াল গিনি।
অন্যদিকে ওপেক প্লাসে রাশিয়া ছাড়াও মেক্সিকো, ওমান, আজারবাইজান, মালয়েশিয়া, বাহরাইন, ব্রুনাই, সুদান, দক্ষিণ সুদান ও কাজাখস্তানসহ কয়েকটি দেশ রয়েছে, যারা বৈশ্বিক জ্বালানি নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

