সত্যজিৎ দাস (মৌলভীবাজার প্রতিনিধি):
বাংলাদেশের ‘চায়ের রাজধানী’ নামে পরিচিত শ্রীমঙ্গল- যে শহর একসময় ঋতুভেদে পর্যটকের ভিড়ে সরগরম থাকত,সেই শহরই এখন অভূতপূর্ব নীরবতায় ডুবে আছে। মৌলভীবাজারের হোটেল-রিসোর্ট,রেস্টুরেন্ট,চান্দের গাড়ির স্ট্যান্ড-সব জায়গায় একই হাহাকার:“পর্যটক নেই,ব্যবসাও নেই।
স্থানীয় হোটেল মালিকদের দাবি,চলতি বছর পর্যটকের সংখ্যা কমেছে প্রায় ৮০ শতাংশ। ২০-৬০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দিয়েও মিলছে না বুকিং। অনেক স্থাপনার মালিকের ভাষায়,শুধুই টিকে থাকতে গিয়ে প্রতিমাসে গুনতে হচ্ছে কোটি টাকার ক্ষতি।
ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বেহাল অবস্থা, রেল টিকিটের অনিশ্চয়তা এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতা ভ্রমণকারীদের আগ্রহ কমিয়ে দিয়েছে দ্রুত। এক দর্শনার্থী মন্তব্য করেন,“গাড়িভাড়া খুব বেশি। যাতায়াত যদি সহজ হতো,পর্যটক বাড়তই।”
যেখানে একসময় একটি রিসোর্টে দৈনিক আয় হতো ৫০-৬০ হাজার টাকা,সেখানে এখন ১০-১৫ হাজার টাকাও তুলতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। চান্দের গাড়ির চালকরা দিনের পর দিন যাত্রীবিহীন বসে থাকেন। রেস্টুরেন্টের টেবিলগুলো খালি পড়ে থাকে,আর হস্তশিল্প বিক্রেতারা পণ্য নিয়ে দিশেহারা।
লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান,মাধবপুর লেক,হাইল হাওর, বাইক্কা বিল কিংবা চা বাগান-সব জায়গাই এখন প্রায় পর্যটকশূন্য। প্রকৃতির সৌন্দর্য অপরিবর্তিত,কিন্তু দর্শনার্থীর পা যেন থমকে গেছে।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ইসলাম উদ্দিন জানিয়েছেন,হারমনি ফেস্টিভাল,ফাগুয়া, বসন্ত উৎসবসহ বিভিন্ন আয়োজনের মাধ্যমে পর্যটন শিল্পে নতুন প্রাণ ফেরানোর চেষ্টা চলছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড বলছে,জাতীয় পর্যটন মাস্টার প্ল্যান অনুমোদিত হলে এ খাত আধুনিক রূপ পাবে।
বর্তমান মন্দা সত্ত্বেও কেউ হতাশ নয়। সংশ্লিষ্টদের বিশ্বাস-যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত হলে,রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরলে এবং চলমান পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত হলে মৌলভীবাজার আবারও হয়ে উঠবে দেশের অন্যতম ব্যস্ত পর্যটন শহর।

