মো আলম, বান্দরবান প্রতিনিধি:
পবিত্র ঈদুল ফিতর ও সাপ্তাহিক সরকারি ছুটিতে বান্দরবানে আগাম হোটেল ও রিসোর্টে বুকিংয়ের হিড়িক পড়েছে। ঈদ উপলক্ষে হোটেল-মোটেল-রিসোর্ট শতভাগ আগাম বুকিং নিয়ে রেখেছেন ভ্রমণ প্রত্যাশীরা।
রবিবার (১৫ মার্চ) দুপুরে হোটেল মালিক সব সমাবেশ সমিতির সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে এ তথ্য জানা যায়।
পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানান, বছরজুড়ে কম-বেশি প্রকৃতিপ্রেমী পর্যটকরা ভিড় জমান পাহাড় কন্যা খ্যাত, পাহাড়ের রাজ্যে অপরূপা বান্দরবানে। বিশেষ ছুটির দিন, শীত মৌসুম ও ঈদের ছুটিতে তা বাড়ে কয়েকগুণ। গত কয়েক বছর জেলার বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্র ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞার কারণে পর্যটক সমাগম কমে গিয়েছিল।
তবে বর্তমানে সব পর্যটনকেন্দ্র ভ্রমণে কোনো প্রকার বিধিনিষেধ না থাকায় জেলায় পর্যটকের সমাগম বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে, ভ্রমণে এসে আবাসন নিশ্চিত করতে আগামী ২৩ ও ২৪ মার্চ বান্দরবান সদরের প্রায় সব হোটেলের ৯০ থেকে ১০০ শতাংশ কক্ষ আগাম বুকিং করেছেন ভ্রমণ প্রত্যাশীরা। ২১ ও ২২ মার্চের জন্যও ৪০ -৬০ শতাংশ কক্ষ আগাম বুকিং হয়ে গেছে। এছাড়া অবশিষ্ট এই কয়দিনে ঈদ পরবর্তী ২১ থেকে ২৪ মার্চ শতভাগ কক্ষ বুকড হবে বলে প্রত্যাশা করছেন তারা।
হোটেল হিলভিউ’র ম্যানেজার পারভেজ বলেন, তাদের হোটেলে আগামী ২১-২২ মার্চ ৬০ শতাংশ এবং ২৩ -২৪ মার্চের জন্য ৯০ শতাংশ কক্ষ আগাম বুকিং নিয়ে রেখেছে বান্দরবান ভ্রমণ প্রত্যাশীরা।
হোটেল গ্র্যান্ড ভ্যালীর জেনারেল ম্যানেজার আক্কাস উদ্দিন বলেন, তাদের হোটেলে ২১-২২ মার্চ বুকিয়ের সংখ্যা কম থাকলেও ২৩ ও২৪ মার্চের জন্য ৯০ শতাংশ কক্ষ আগাম বুকিং হয়ে গেছে।
বান্দরবান হোটেল রিসোর্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. জসীম উদ্দিন বলেন, ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে টানা ছুটির কারণে পর্যটকদের ভালো সাড়া পাচ্ছেন। এরই মধ্যে ২৩-২৪ মার্চ জেলার অধিকাংশ কটেজ, রিসোর্ট ও আবাসিক হোটেলগুলোতে ৯০ থেকে ১০০ শতাংশ কক্ষ আগাম বুকিং হয়ে গেছে। বাকি দিনগুলোতে অন্যগুলিও শতভাগ বুকিং পাবেন বলে প্রত্যাশা করছেন তিনি। এছাড়া পর্যটকদের সার্বিক সেবা নিশ্চিত করতে হোটেল মালিকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
ট্যুরিস্ট পুলিশ বান্দরবান রিজিয়ন এর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. পারভেজ আলী জানান, ট্যুরিস্ট পুলিশের কেন্দ্রীয় নির্দেশনা মোতাবেক বান্দরবানের সকল পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে নিয়মিত পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকেও নজরদারি থাকবে। ঈদুল ফিতরের ছুটিতে বান্দরবানে আগত পর্যটকরা নির্বিঘ্নে, নিরাপদে ভ্রমণ করতে পারবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

