বলিউড ইতিহাসের অন্যতম সফল এবং কালজয়ী সিনেমা ‘থ্রি ইডিয়টস’-এর সিক্যুয়েল নিয়ে দীর্ঘদিনের জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটল। ২০০৯ সালে মুক্তির পর যা কেবল একটি সিনেমা নয়, বরং এক প্রজন্মের অনুপ্রেরণা হয়ে দাঁড়িয়েছিল, সেই গল্পের দ্বিতীয় কিস্তি নিয়ে আসার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন স্বয়ং আমির খান।
সিনেমাটির পরিচালক রাজকুমার হিরানি আবারও এই কালজয়ী ত্রয়ীকে পর্দায় ফেরাতে হাত দিয়েছেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে আমির খান নিশ্চিত করেছেন যে, রাজকুমার হিরানি বর্তমানে ‘থ্রি ইডিয়টস ২’-এর কাজ নিয়ে ব্যস্ত। আমির বলেন, “আমি প্রাথমিক গল্পটি শুনেছি, এটি দারুণ লেগেছে।” চিত্রনাট্যের শেষ মুহূর্তের ঘষামাজা চললেও মূল ধারণাটি যে অত্যন্ত শক্তিশালী, সেই আভাসও দিয়েছেন তিনি।
নতুন সিনেমার গল্প এগোবে মূল কাহিনীর প্রায় এক দশক পর থেকে। অর্থাৎ র্যাঞ্চো, ফারহান ও রাজুর প্রৌঢ় জীবনের চ্যালেঞ্জ এবং তাদের বন্ধুত্বের পরবর্তী অধ্যায়ই এবার বড় পর্দায় ফুটে উঠবে। ভক্তদের জন্য সবচেয়ে বড় খবর হলো, আমির খান আবারও তাঁর আইকনিক চরিত্র ফানসুখ ওয়াংডু (র্যাঞ্চো) হিসেবে ফিরছেন।
র্যাঞ্চোর সেই বিশেষ দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং হাস্যরস বজায় থাকবে দ্বিতীয় পর্বেও। জীবন এবং শিক্ষার প্রতি ভিন্ন এক বার্তা নিয়ে আসবে এই সিক্যুয়েল।
পুরানো দল: আর মাধবন, শারমান যোশী ও কারিনা কাপুর ফিরছেন কি না, তা নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না এলেও ভক্তদের প্রত্যাশা সেই চেনা মুখগুলোকেই আবারও দেখা যাবে।
চেতন ভগতের উপন্যাস অবলম্বনে তৈরি প্রথম সিনেমাটি ভারতীয় শিক্ষাব্যবস্থার অসংগতি এবং স্বপ্নের পিছে ছোটার যে বার্তা দিয়েছিল, তা আজও প্রাসঙ্গিক। দীর্ঘ ১৬ বছর পর এই সিক্যুয়েলের ঘোষণা দর্শকদের পুরোনো স্মৃতিকে নতুন করে নাড়া দিয়েছে। আধুনিক সময়ের নতুন বাস্তবতায় এই তিন বন্ধুর জীবনের দর্শন কতটা কার্যকর হয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

