তানভীর তুহিন, স্টাফ রিপোর্টার:
ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার আটরশিতে অবস্থিত বিশ্ব জাকের মঞ্জিল দরবার শরীফে পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে তিনদিনব্যাপী বিশাল কোরবানির আয়োজন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) ছিলো কোরবানির প্রথম দিন। জিকির, দোয়া ও তাকবির ধ্বনিতে মুখর এ তিন দিনের আয়োজনে প্রায় এক হাজার গরু ও ছাগল কোরবানি করা হবে বলে জানিয়েছে দরবার সংশ্লিষ্টরা।

১০, ১১ ও ১২ জিলহজ্জ উপলক্ষে আয়োজিত এ কোরবানি কর্মসূচিকে ঘিরে কয়েকদিন ধরেই আটরশিতে ভিড় জমান দেশ-বিদেশের হাজারো ভক্ত, আশেকান ও জাকেরান। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, শৃঙ্খলা ও আধ্যাত্মিক আবহে পুরো দরবার এলাকা যেন পরিণত হয় এক বিশাল মিলনমেলায়।
দরবার সূত্রে জানা যায়, প্রতিবছরের ধারাবাহিকতায় এবারও নির্ধারিত কোরবানি শালায় একসঙ্গে বিপুল সংখ্যক পশু কোরবানি দেওয়া হয়। বিশাল এ কোরবানি কার্যক্রম পরিচালিত হয় নির্ধারিত নিয়ম ও সুসংগঠিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে। কোরবানির সময় আল্লাহর নামে তাকবির ও জিকিরে মুখর হয়ে ওঠে পুরো বিশ্ব জাকের মঞ্জিল প্রাঙ্গণ।
দূর-দূরান্ত থেকে আগত ভক্তরা নিজেদের কোরবানি ও নজরানার পশু নিয়ে অংশ নেন এ আয়োজনে। অনেকের কাছে এটি শুধু কোরবানি নয়, বরং আত্মশুদ্ধি, ইবাদত ও ভ্রাতৃত্বের এক অনন্য সমাবেশ।

কোরবানি শেষে দরবারের বিশাল পাকশালায় পশুর মাংস রান্না করে প্রস্তুত করা হয় তাবারক। পরে তা উপস্থিত বিপুল সংখ্যক ভক্ত ও দর্শনার্থীদের মাঝে বিতরণ করা হয়। তাবারক প্রস্তুত ও বিতরণ কার্যক্রমেও দেখা যায় ব্যাপক শৃঙ্খলা ও স্বেচ্ছাসেবকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ।
আয়োজনস্থলে কথা হয় বিভিন্ন জেলা থেকে আগত ভক্তদের সঙ্গে। এক জাকের বলেন, “আমরা প্রতিবছর এখানে আসি। একসঙ্গে এত বড় পরিসরে আল্লাহর নামে কোরবানি ও জিকিরের পরিবেশ হৃদয়ে ভিন্ন অনুভূতি সৃষ্টি করে। এখানে এসে মনে হয় সবাই যেন এক পরিবারের সদস্য।”
আরেক ভক্ত বলেন, “শুধু কোরবানি নয়, এত মানুষের মাঝে শৃঙ্খলার সঙ্গে তাবারক বিতরণও বড় বিষয়। পুরো আয়োজন সুন্দরভাবে পরিচালনা করা সত্যিই প্রশংসনীয়।”
দরবারের এক দায়িত্বশীল প্রতিনিধি জানান, এ আয়োজন শুধু কোরবানিতে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি ভক্তদের মিলন, ইবাদত ও মানবসেবার একটি বৃহৎ কর্মসূচি।

তিনি বলেন, “প্রতি বছরই ভক্তদের সহযোগিতা ও স্বেচ্ছাসেবকদের পরিশ্রমে এ আয়োজন সম্পন্ন হয়। কোরবানির পর তাবারক রান্না ও বিতরণের মাধ্যমে মানুষের মাঝে ভ্রাতৃত্ব ও সেবার বার্তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।”
তিনি আরও জানান, বিশাল এ আয়োজন সফল করতে দরবারের নিজস্ব কর্মী ও বিপুল সংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক প্যান্ডেল নির্মাণ, শৃঙ্খলা রক্ষা এবং তাবারক বিতরণে নিরলসভাবে কাজ করেন।
ধর্মীয় আবহ, সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা এবং দেশ-বিদেশের ভক্তদের ব্যাপক অংশগ্রহণে আটরশির বিশ্ব জাকের মঞ্জিলের এ কোরবানির আয়োজন প্রতিবছরের মতো এবারও বিশেষ তাৎপর্য বহন করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা ও ভক্তরা।

