জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকেন্দ্রিক মানবতাবিরোধী অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বাংলাদেশের মাটিতে বিচারের মুখোমুখি করতে সরকারের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। একই সাথে গত ১৭ বছরে দেশ থেকে বিদেশে পাচার হওয়া বিপুল পরিমাণ অর্থ ফেরত আনার আইনি প্রক্রিয়াও দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে বলে নিশ্চিত করেছেন তিনি।
গতকাল বুধবার (১ জুলাই ২০২৬) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাম্প্রতিক বিভিন্ন সমসাময়িক ও কূটনৈতিক ইস্যুতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এ কথা জানান।
‘আসামিকে ফিরিয়ে এনে সাজা কার্যকর করতে কাজ চলছে’
ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর কূটনৈতিক ও আইনি অগ্রগতির বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন:
“শেখ হাসিনাকে ফেরানোর বিষয়ে এই মুহূর্তে নতুন কোনো বড় আপডেট নেই, তবে পুরো বিষয়টি আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। অবশ্যই একজন শীর্ষ আসামি, যিনি দেশের মানুষের ওপর অন্যায় করে, মানবতাবিরোধী অপরাধ করে অন্য দেশে অবস্থান করছেন এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে যার বিচার ও সাজা হয়েছে, তাঁকে আমরা দেশে ফিরিয়ে এনে বাংলাদেশের মাটিতে সেই রায় কার্যকর করতে চাই। বাংলাদেশের কোটি জনতাও ঠিক সেটাই প্রত্যাশা করে। সেই লক্ষ্যেই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।”
বিগত সরকারের আমলে দেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ বলেন, গত ১৭ বছরে অবৈধভাবে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতে বর্তমান সরকার সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও অপরাধ তদন্ত সংস্থাগুলোর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে।
তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে দেশবাসীকে জানিয়েছেন যে—পাচার হওয়া অর্থ সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করে তা ফেরত পেতে বিশ্বের শীর্ষ ১০টি দেশের কাছে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানিয়েছে। যেসব দেশে অর্থ পাচার হয়েছে, সেসব দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক অত্যন্ত সুদৃঢ় এবং আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী এ বিষয়ে একটি নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়।
পাচার হওয়া অর্থ ফেরত পাওয়ার সময়সীমা নিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, “টাকা পাচার করা যত সহজ, আন্তর্জাতিক আইনের জটিল মারপ্যাঁচ পেরিয়ে তা ফেরত আনা ততটাই কঠিন। এটা রাতারাতি বা দুই-এক দিনে হওয়ার মতো কোনো বিষয় নয়; এটি বেশ সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। তবে আমরা আশাবাদী, কারণ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের যে চুক্তিগুলো রয়েছে এবং বর্তমানে যে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক আলোচনা চলছে, সেগুলোর মাধ্যমে আমরা অনেকদূর এগিয়েছি। বাংলাদেশের সাধারণ জনগণের হাড়ভাঙা খাটুনির পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে আমরা একধাপ এগিয়েছি এবং এই আইনি প্রক্রিয়াটি চলমান রয়েছে।”

