আবু রায়হান, বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় চিকিৎসকের অনুপস্থিতিতে এক ডায়াগনস্টিক সেন্টারের টেকনিশিয়ান রোগীর বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করিয়ে চিকিৎসা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মূল ফটকের সামনে অবস্থিত ‘কথামনি ডায়াগনস্টিক সেন্টার’-এ।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বেলা ৩টার দিকে সরেজমিনে এমন চিত্র দেখা যায়। জানা গেছে, উপজেলার নওমালা ইউনিয়নের মো. জাহাঙ্গীর (৫০) তীব্র পেটব্যথা নিয়ে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে চিকিৎসা নিতে ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যান। সেন্টারের পক্ষ থেকে তাকে জানানো হয়, অল্প সময়ের মধ্যেই চিকিৎসক আসবেন।
কিন্তু দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করানোর পরও চিকিৎসক না এলেও রোগীর রক্ত ও প্রস্রাবের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পাশাপাশি এক্স-রে ও অন্যান্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করেন সেন্টারের কর্মচারী মাহবুবুর রহমান। অভিযোগ রয়েছে, তিনি কোনো বৈধ টেকনিশিয়ান সনদ ছাড়াই এসব কাজ করে আসছেন।
ভুক্তভোগী জাহাঙ্গীর জানান, “রাতে তীব্র ব্যথায় একটুও ঘুমাতে পারিনি। সকাল থেকে এখানে বসে আছি, ডাক্তার আসেননি। কিন্তু আমার সব পরীক্ষা করে ফেলেছে। যদি জানতাম ডাক্তার বিকেলে আসবেন, তাহলে সরকারি হাসপাতালে চলে যেতাম। তারা আমাকে মিথ্যা আশ্বাস দিয়েছে।”
এদিকে, দুপুর গড়িয়ে বিকেল ৩টার দিকে রোগীকে ‘Andol’ ও ‘Emistat 8mg’ ইনজেকশন কিনতে বলা হয়। তখনও রোগী ব্যথায় কাতরাচ্ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, চিকিৎসকের সরাসরি উপস্থিতি ছাড়াই মোবাইল ফোনে পরামর্শ নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়, যা স্বাস্থ্যবিধির পরিপন্থী।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ডায়াগনস্টিক সেন্টার ব্যবসায়ী জানান, “মাহবুবুর রহমানের কোনো টেকনিশিয়ান সনদ নেই। তারপরও তিনি নিয়মিত এক্স-রে করেন এবং অনেক সময় নিজেই ডাক্তার সেজে রোগীদের চিকিৎসা দেন।”
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কর্তৃপক্ষ নার্গিস আরা স্বপ্না। তিনি বলেন, “ডাক্তারের সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করে রোগীর পরীক্ষা ও চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।”
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ডা. মো. সাইফুল ইসলাম (শামিম) মুঠোফোনে জানান, তিনি বরিশাল থেকে আসছিলেন এবং প্রতিদিন বিকেল ৪টা থেকে চেম্বার করেন। রোগীকে সকাল থেকে বসিয়ে রাখা ‘মিস লিডিং’ হয়েছে বলে স্বীকার করেন তিনি। একইসঙ্গে মোবাইলে চিকিৎসা পরামর্শ দেওয়ার বিষয়টিও নিশ্চিত করেন।
এদিকে, রোগীর গ্যাস্ট্রিক সমস্যার কথা বলা হলেও তাকে গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ না দিয়ে ব্যথানাশক ও বমি প্রতিরোধক ওষুধ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে, যদিও তার বমির কোনো উপসর্গ ছিল না।
ঘটনার বিষয়ে জানতে টেকনিশিয়ান মাহবুবুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুর রউফ বলেন, “রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের অনুপস্থিতিতে কোনো ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কর্মচারী দ্বারা পরীক্ষা-নিরীক্ষা বা চিকিৎসা প্রদান সম্পূর্ণ বেআইনি। এ ধরনের ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”
জেলা সিভিল সার্জন মো. খালিদুর রহমান মিয়া বলেন, “চিকিৎসক ছাড়া অন্য কেউ পরীক্ষা-নিরীক্ষা বা ওষুধ লিখে দেওয়া অপরাধ। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

