আব্দুস ছালাম মোল্লা, স্টাফ রিপোর্টার:
ফরিদপুরে পবিত্র ঈদুল আজহায় ঘুরতে বেরিয়ে ও বাড়ি ফেরার পথে পৃথক চারটি দুর্ঘটনায় ছয়জন নিহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে পাঁচজনই তরুণ। ঈদের আগের দিন গত বুধবার বিকেল থেকে ঈদের দিন গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত এসব দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন আটজন।
নিহত ছয়জন হলেন আলিমুজ্জামান মাতুব্বর (৫৫), রাজন শেখ (১৮), ইব্রাহিম ফকির (১৭), উমর শেখ (২১), মো. সাইফুল মোল্লা (২৩) ও আলী ইমরান শরীফ (২৪)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র বলেছে, গতকাল সন্ধ্যায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের ভাঙ্গা উপজেলার সুয়াদি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দুটি মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে একটি মোটরসাইকেলের আরোহী আলিমুজ্জামান মাতুব্বর (৫৫) নিহত হয়েছেন। বিজিবির অবসরপ্রাপ্ত এই সদস্য ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার কাইচাইল ইউনিয়নের উত্তর কান্দি গ্ৰামের হোসেন মাতুব্বরের ছেলে।
এর আগে এদিন বিকেল ৫টার দিকে ফরিদপুর-বরিশাল মহাসড়কে নগরকান্দার নারানখালী ব্রিজ এলাকায় ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই মোটরসাইকেল আরোহী রাজন (১৮) নিহত হন। আহত হন তাঁর সঙ্গে থাকা আরোহী ইব্রাহিম ফকির (১৭)। গুরুতর আহত অবস্থায় ইব্রাহিমকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যায় তাঁর মৃত্যু হয়। নিহত রাজন মধুখালী উপজেলার নওয়াবাড়ী ঘোষকান্দি গ্রামের হামিদ শেখের ছেলে এবং ইব্রাহিম একই গ্রামের ওয়াসিম ফকিরের ছেলে। ঈদের দিনে তাঁরা ভাঙ্গা গোলচত্বরে ঘুরতে বেরিয়েছিলেন।
ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ মামুন বলেন, রাজন ও ইব্রাহিম মোটরসাইকেল চালিয়ে ভাঙ্গা গোলচত্বরের দিকে যাচ্ছিলেন। পথে মহাসড়কের নারানখালী ব্রিজ এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ব্যক্তিগত গাড়ির সঙ্গে তাঁদের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এ সময় ব্যক্তিগত গাড়িটির সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে যায় এবং মোটরসাইকেলটি ছিটকে খাদে পড়ে যায়।
ঈদের আগের দিন বুধবার রাত ১১টার দিকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের পূর্ব সদরদী এলাকায় দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত হন মো. সাইফুল মোল্লা (২৩) ও আলী ইমরান শরীফ (২৪)। আহত হন দুজন। তাঁদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। নিহত সাইফুল ভাঙ্গা উপজেলার ঘারুয়া ইউনিয়নের গঙ্গাধরদী এলাকার কাঞ্চন মোল্লার ছেলে এবং আলী ইমরান বরিশাল সদরের জাহাঙ্গীর শরীফের ছেলে।
হাইওয়ে পুলিশ জানায়, ঢাকা থেকে বরিশালগামী বেপরোয়া গতির একটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা আরেকটি মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে দুটি মোটরসাইকেলে থাকা চার যুবক মহাসড়কের ওপর ছিটকে পড়েন। পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন তাঁদের উদ্ধার করে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক ইমরান শরীফ ও সাইফুল মোল্লাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় দুটি মহাসড়কে পৃথক তিনটি সড়ক দুর্ঘটনায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তিদের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এদিকে বুধবার ঈদের ছুটিতে বাড়িতে এসে বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে বের হন ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার গড়ানিয়ার গ্রামের দেলোয়ার শেখের ছেলে উমর শেখ (২১)। তাঁরা আলফাডাঙ্গা উপজেলার মধুমতী নদী এলাকায় যান। ফেরার পথে বানা ইউনিয়নের আউষের হাট এলাকায় তাঁদের বহনকারী নছিমনটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। এ সময় উমর শেখসহ চার-পাঁচজন গুরুতর আহত হন।
আলফাডাঙ্গা থানা-পুলিশ জানায়, স্থানীয় বাসিন্দারা আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক উমরকে মৃত ঘোষণা করেন।

