লক্ষ্মীপুরের কামারহাট বাজারে মঙ্গলবার রাতে তখন অন্ধকার, কিন্তু হঠাৎ করে আলো হয়ে উঠল ভয়ঙ্কর আগুনের শিখা। স্থানীয়দের রূপকল্পও চোখে ভেসে উঠতে পারে—আলিফ এন্টারপ্রাইজের দোকান থেকে আগুন ছড়িয়ে পড়ে আশেপাশের সব দোকানে। সেখানে ছিল জ্বালানি তেল, অকটেন, গ্যাস সিলিন্ডার—যা মুহূর্তের মধ্যে লেলিহান আগুনে রূপ নেয়।
স্থানীয়রা জানান, আগুনের সময় বাজারে তারাবির নামাজ চলছিল। মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়া আগুনে সবাই আতঙ্কে ছুটছিল। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের দুটি ইউনিট প্রায় ৪৫ মিনিট চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। তবে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করতে গিয়ে একজন ফায়ার সার্ভিস কর্মীও আহত হন।
নজির চেয়ে ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে—৯টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে, যার আর্থিক ক্ষতি ৭০-৭৫ লাখ টাকার মতো। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা শূন্য হাতে, তাদের সব স্বপ্ন, শ্রম ও ব্যবসার আশা এক রাতের মধ্যে ছিন্নভিন্ন।
জেলা প্রশাসক এস এম মেহেদী হাসান জানিয়েছেন, আলিফ এন্টারপ্রাইজে গ্যাস চুলা মেরামতের সময় সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে এই মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত। ধোঁয়া আর আগুনে দগ্ধ দোকানগুলো এখন শুধু স্মৃতিই হয়ে থাকল, এবং ব্যবসায়ীদের সহায়তার জন্য প্রশাসন পদক্ষেপ নিচ্ছে।
ছোট গল্পের মতো এই ঘটনায় শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতি নয়—মানুষের আতঙ্ক, রাতভর ভয়, এবং হারানো স্বপ্নের কষ্টও ফুটে উঠেছে। কামারহাট বাজারের সেই রাত আজও মনে করিয়ে দিচ্ছে, এক মুহূর্তে কতটা বদলে যেতে পারে জীবন।

