জাবেদ শেখ, জেলা প্রতিনিধি শরীয়তপুর:
শরীয়তপুর জেলা নির্বাচন অফিসের সার্ভার স্টেশনে দালাল ছাড়া সাধারণ সেবাপ্রার্থীরা কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, নিয়ম মেনে আবেদন করতে গেলে নানা অজুহাতে ভুলত্রুটি দেখিয়ে দিনের পর দিন ঘুরানো হয়। তবে দালালের মাধ্যমে গেলে অনেক জটিল কাজও সহজে সম্পন্ন হয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে জেলা নির্বাচন অফিসে গিয়ে দেখা যায়, সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মেহেদী হাসানের কক্ষের সামনে অনেক সেবাপ্রার্থী অপেক্ষা করছেন। উপস্থিত কয়েকজন জানান, সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত তিনি অফিসে আসেননি। পরে ফ্রন্ট ডেস্ক থেকে যোগাযোগ করা হলে সকাল প্রায় ১০টা ৪০ মিনিটে তিনি মোটরসাইকেলে করে অফিসে প্রবেশ করেন।
সুমন তালুকদার নামে এক ব্যক্তি অভিযোগ করে বলেন, তার পরিচিত এক নারীর ভোটার নিবন্ধনের জন্য প্রথমে আবেদন করলে তাকে জানানো হয়, ঢাকার বাসিন্দা হওয়ায় শরীয়তপুরে ভোটার হওয়ার সুযোগ নেই। পরে দালালের মাধ্যমে ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে একই ব্যক্তিকে শরীয়তপুরের ঠিকানায় ভোটার করা হয় বলে তিনি দাবি করেন।
এ বিষয়ে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মিজানুর রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বিষয়টি নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন এবং কীভাবে ভোটার করা হয়েছে সে বিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার সঙ্গে সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কক্ষে গেলে সেখানে অপেক্ষমাণ বেশ কয়েকজন সেবাপ্রার্থী দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন কাজে হয়রানির অভিযোগ করেন। তাদের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও নানা কারণে কাজ সম্পন্ন করা হচ্ছে না।
সদর উপজেলার বালাখানা গ্রামের এক নারী বলেন, ভোটার আইডি সংশোধনের জন্য তিনি কয়েকদিন ধরে অফিসে আসছেন। কিন্তু মঙ্গলবার তাকে জানানো হয়েছে, স্যারের মাথা গরম, আজ কাজ হবে না।
পালং ৪ নম্বর ওয়ার্ডের আরেক নারী অভিযোগ করেন, দুপুর ১টার পর কোনো কাজ করা হয় না। মঙ্গলবারও একই অজুহাতে তাকে ফিরে যেতে বলা হয়েছে।
আঙ্গারিয়া ইউনিয়নের সিফাত সালেহীন বলেন, ভোটার আইডি কার্ডে তথ্যের ভুল অফিস থেকেই হয়েছে। এখন সেই ভুল সংশোধনের জন্য আমাদের নানা জটিলতার মুখে পড়তে হচ্ছে।
শরীয়তপুর পৌরসভার কর্মচারী মো. আলামিন জানান, ছোট ভাইকে নতুন ভোটার করার জন্য প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র জমা দিলেও তাকে এক সপ্তাহ পরে আসতে বলা হয়েছে।
তিনি বলেন, আমার ভাই ঢাকায় চাকরি করে। তার জরুরি ভিত্তিতে জাতীয় পরিচয়পত্র প্রয়োজন। কিন্তু নানা অজুহাতে কাজ করা হচ্ছে না। এসব অভিযোগের বিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মেহেদী হাসানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার কাছে কিছু জানতে চাইলে লিখিতভাবে প্রশ্ন দিতে হবে। এরপর তিনি এ বিষয়ে আর কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন সেবাপ্রার্থীরা।

