নিজস্ব প্রতিবেদক:
ছয় মাস পর কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্স খোলা হয়েছে। শনিবার (২৭ জুন) সকাল থেকে জেলা প্রশাসন, মসজিদ কর্তৃপক্ষ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং ব্যাংক কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে দানবাক্সগুলো খোলার কার্যক্রম শুরু হয়।
এবার দানবাক্স খুলে পাওয়া গেছে ৪৩ বস্তা ভর্তি টাকা। নগদ টাকার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রা, স্বর্ণালংকার এবং মূল্যবান সামগ্রী পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তবে প্রতিবেদন লেখার আগে পর্যন্ত দানবাক্সে থাকা অর্থের চূড়ান্ত হিসাব শেষ হয়নি।
দানবাক্স খোলার পর বিপুল পরিমাণ টাকা বস্তাভর্তি করে নিরাপত্তার সঙ্গে মসজিদের নির্ধারিত স্থানে নেওয়া হয়। এরপর ব্যাংকের কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি এবং মসজিদ পরিচালনা কমিটির সদস্যরা একসঙ্গে টাকা গণনার কাজ শুরু করেন। বিপুল পরিমাণ অর্থ থাকায় গণনার কাজ শেষ হতে বেশ সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিদিন হাজারো মানুষ পাগলা মসজিদে এসে দান করেন। অনেকের বিশ্বাস, আন্তরিকভাবে মানত করলে আল্লাহ তাদের আশা পূরণ করেন। সেই বিশ্বাস থেকেই নগদ অর্থ, বৈদেশিক মুদ্রা, স্বর্ণালংকারসহ নানা মূল্যবান সামগ্রী দানবাক্সে জমা দেন ভক্তরা।
পাগলা মসজিদের দানবাক্স সাধারণত তিন থেকে ছয় মাস পরপর খোলা হয়। প্রতিবারই কোটি কোটি টাকার সমপরিমাণ অর্থ জমা পড়ে, যা দেশের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অন্যতম বড় দানের নজির হিসেবে বিবেচিত হয়।
মসজিদ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দানবাক্স থেকে প্রাপ্ত অর্থ সরকারি বিধি অনুসারে ব্যাংকে জমা রাখা হবে এবং মসজিদের উন্নয়ন, রক্ষণাবেক্ষণ, ধর্মীয় কার্যক্রম ও জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন কাজে ব্যয় করা হবে।
এবারও ৪৩ বস্তা টাকা পাওয়ার ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। চূড়ান্ত গণনা শেষ হলে মোট কত টাকা পাওয়া গেছে, সে তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

