ক্রাইম রিপোর্টার:
রংপুর সদর উপজেলার চন্দনপাট ইউনিয়নে অবস্থিত ভিআইপি শাহাদত পোল্ট্রি খামারের বিষাক্ত বর্জ্যে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে আশপাশের কয়েকটি গ্রামের সাধারণ মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে খামারটি এলাকার কিছু মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করলেও, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কার্যকর কোনো উদ্যোগ না থাকায় এখন তা স্থানীয়দের জন্য এক ভয়াবহ দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
খামার থেকে প্রতিনিয়ত বের হওয়া দুর্গন্ধ, মশা-মাছির উপদ্রব এবং বিষাক্ত বর্জ্যে বসবাসের অনুপযোগী হয়ে উঠেছে আশপাশের পরিবেশ। এলাকাবাসীর অভিযোগ, বর্ষা মৌসুম এলেই খামারের জমে থাকা বর্জ্য বৃষ্টির পানির সঙ্গে মিশে পাশের ফসলি জমিতে প্রবেশ করে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় শত শত কৃষকের ধান ক্ষেত, নষ্ট হয়ে যায় দেশীয় মাছের আবাসস্থলও।
চলতি বছরের বোরো মৌসুমে পাশ্ববর্তী বদরগঞ্জ উপজেলার বসন্তপুর গ্রামের প্রায় দুই শতাধিক কৃষক ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। কৃষকদের দাবি, বিষাক্ত বর্জ্যের কারণে তাদের উৎপাদিত ধানের ২০ শতাংশও সময়মতো ঘরে তুলতে পারেননি তারা। অনেকে ঋণ নিয়ে চাষ করলেও ফলন বিপর্যয়ে এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়ে বদরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোছাঃ সেলিনা আফরোজ বলেন, “আমি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দেখতে গিয়েছিলাম। তারা দীর্ঘদিন ধরে এমন পরিস্থিতির সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছেন। বোরো মৌসুমে বিকল্প চাষাবাদের পরামর্শ দিয়েছি। পাশাপাশি বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। কোনো সহযোগিতার আশ্বাস পেলে কৃষকদের অবগত করা হবে।”
এদিকে পরিবেশ অধিদপ্তর রংপুরের উপপরিচালক জনাব সালাম জানান, এর আগেও কেন্দ্রীয় পরিদর্শন টিম উক্ত পোল্ট্রি খামার পরিদর্শন করেছিল। খামারের স্বত্বাধিকারী ভিআইপি শাহাদাত হোসেনকে মুচলেকাও দিতে হয়েছিল। তিনি তখন বিষাক্ত বর্জ্য শোধনাগার স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে বাস্তবে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি। পরিবেশ অধিদপ্তর আবারও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
এলাকাবাসীর প্রশ্ন—কতদিন আর বিষাক্ত বর্জ্যের অভিশাপ বয়ে বেড়াতে হবে কৃষকদের? ফসলহারা মানুষের চোখের জল আর নিঃশ্বাসরুদ্ধ পরিবেশ কি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিবেককে নাড়া দেবে না?

